পাহাড় কেটে বসতি স্থাপনের মহোৎসব

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের শুরু হয়েছে পাহাড় কেটে জঙ্গল সাফ করে সেখানে বসতি গড়ে তোলার হিড়িক। এতে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড় ও জঙ্গল। ঝুঁকিতে পড়ছে সেখানকার বসতিরা। এমন অবস্থা চলছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বনাঞ্চলে। সেখানকার সরকারি পিএফ জায়গা দখল করে বসতি নির্মাণের সহায়তা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিন গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এদিকে পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা বসতিদের অপসারণে প্রশাসনের পক্ষ হতে মাইকিং করা হচ্ছে, অপরদিকে বাঁশখালীর বনাঞ্চলে একের পর এক পাহাড়ি জায়গা দখল করে চলছে বসতি স্থাপন। কিন্তু স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তারা রয়েছেন নীরব। তাদের এ ভূমিকা নিয়ে নানা কৌতূহল জন্ম নিয়েছে এলাকাবাসীর।

গতকাল রোববার উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের জঙ্গল চাম্বল, জঙ্গল জলদী, জঙ্গল নাপোড়া ও জঙ্গল পাইরাং এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অর্ধ সহ¯্রাধিক বসতি গড়ে উঠেছে পিএফ জায়গার ওপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বনাঞ্চল প্রভাবশালীরা দখল করে সেই জায়গায় বনবিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বসতঘর নির্মাণে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এর বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটস্থ করছেন তারা। এ ছাড়া বনদস্যুরা গাছ কেটে উজাড় করছেন বনাঞ্চল। সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়ি কাঠ পাচারকারীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরো আঁতাত রয়েছে পাহাড় থেকে কেটে নেওয়া মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। সব দিক থেকেই বখরা পাচ্ছেন অসাধু বন কর্মকর্তারা। এসব ব্যাপারে কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না দায়িত্বরত বন কর্মকর্তারা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে জঙ্গল জলদী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে পাহাড় থেকে বনদস্যুরা প্রতিদিন কাঠ পাচার করছেন। দিনদুপুরেও পাহাড় থেকে মাটি কেটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ি পিএফ জায়গার ওপর অবৈধ স্থাপনা ও বসতি নির্মাণ, পাহাড়ের মাটি ব্যবসা ও কাঠ পাচারে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন একশ্রেণির বনবিট কর্মকর্তা।

স্থানীয়দের এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাম্বল ও জলদী বনবিট কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান শেখ বলেন, পাহাড়ে প্রায় শত বছর আগে থেকে জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণ করে তথায় বসবাস করছেন অনেকেই। নতুন কোনো বসতি নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করে থাকেন, তবে তা করছেন স্বার্থ হাসিলের জন্য। পাহাড়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে তারা কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

"