সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যা

১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে মামলার বিচার

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

যশোরের শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যাকা-ের ১৭তম বার্ষিকী আজ। এখনো এই হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হয়নি; বরং ১২ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে ঝুলে রয়েছে এই মামলার বিচার। এই হত্যাকা-ের বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার এবং যশোরের সাংবাদিক সমাজ। তবে সরকার চাইলেই এই হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মন্তব্য আইনজীবীদের। এদিকে, দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির বিচার না হওয়ায় নিহতের পরিবার এবং সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নিহতের পরিবার এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয় পুরনো বিতর্কিত তদন্ত বাতিলপূর্বক মামলাটি পুনঃতদন্তের।

এদিকে, শামছুর রহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর প্রেসক্লাব এবং যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন আজ (জেইউজে) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সাংবাদিক শামছুর রহমান ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠের যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শামছুর রহমান খুন হওয়ার পর ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ওই সময় বিগত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকজন আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুনভাবে আসামি করা হয়।

একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ঠজনদের। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়, অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছর জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় মামলার বাদী শামছুর রহমানের সহধর্মিণী সেলিনা আক্তার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন।

আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হীরক পলাতক রয়েছে। হীরকসহ সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য আসামির সঙ্গে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্য রয়েছে। ফলে তার (বাদী) পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর এই আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না, সেজন্য সরকারের ওপর রুলনিশি জারি করে। এরপর মামলার আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

নিহতের সহোদর এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সহ-সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকা-ের বিচারের দাবিটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে একাধিক বার তোলা হয়েছে। এছাড়া তারা একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু এতে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি।

যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তাদেরও প্রত্যাশা, আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে মামলার কার্যক্রম আবারো শুরু হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে যোগাযোগ করবেন।

প্রসঙ্গত, এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হীরক পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছে। আরেক আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র‌্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলার চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কালু হৃদরোগে এবং যশোর সদরের চুড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছে।

"