উত্তরে দুর্গতরা দুর্ভোগে মধ্যাঞ্চলে ভাঙছে নদী

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

উত্তরের ১৩ জেলায় বন্যার পানি নতুন করে না বাড়লেও যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ বেশিরভাগ নদ-নদী বইছে বিপৎসীমার ওপরে। ফলে এখনো পানিবন্দি এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট চলছে। গবাদি পশু নিয়েও দুর্ভোগে রয়েছে। সিরাজগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে, বাঁধ মেরামতে নেমেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, বন্যার পানি আজ থেকে আরো কমতে শুরু করবে। এদিকে, মধ্যাঞ্চলে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। পদ্মা ও যমুনার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মার তীব্র স্রোতে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ : সদর উপজেলায় যমুনা তীরে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া নির্মাণাধীন রিং বাঁধটি মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি দলও মাঠে নেমেছে। রতনকান্দি ইউনিয়নে বাহুকা এলাকার বাঁধটিতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙন দেখা দিলে লোকালয়ে পানি ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু সেনাক্যাম্পের ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মেজর সাঈদের নেতৃত্বে একটি দল ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে ভাঙা বাঁধ মেরামত করে। এদিকে, ভাঙন কবলিত এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ফরিদপুর : বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলা, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সব সময় প্রস্তুত এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।

শরীয়তপুর : পদ্মার ভাঙনে ১০ দিনে নড়িয়া উপজেলার ১২ গ্রামের আড়াই শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো এক হাজার বাড়িঘর। ভাঙনের শিকার হয়েছে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীভাঙন এলাকার লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের এলাকায়। ভিটেমাটি হারা মানুষদের খাস জমি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুর হোসাইন খান। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, নদীতীর রক্ষায় জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর লঞ্চঘাট পর্যন্ত বাঁধ দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম : বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে। ৪২ ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ আট দিন ধরে পানিবন্দি। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে, রাজীবপুর উপজেলার বটতলা এলাকায় পাকা সড়কের ১৫ ফুট ধসে গেছে। এতে বালিয়ামারী, জালছিড়ার পাড়, মিয়াপাড়া, বটতলা ম-লপাড়া ও কলেজপাড়াসহ সাত গ্রামের মানুষের যোগাযোগে দুর্ভোগ বেড়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, প্রতিদিনই বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ আসছে এবং আমরা তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিতরণ করছি। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আগামীকাল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসবেন।

গাইবান্ধা : বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। পানিবন্দি এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু নিয়েও দুর্ভোগ রয়েছে। সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ত্রাণ না পাওয়ারও অভিযোগ বেশিরভাগ মানুষের। তীব্র স্রোত ও পানির চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান। অপরদিকে, এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য কাল রোববার গাইবান্ধা আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর : বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্ধ করা হয়েছে জেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৪৪ ইউনিয়নের দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি।

মৌলভীবাজার : পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জেলার হাওরাঞ্চলে বন্যার পানি আবারও বেড়েছে। হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক ডুবে গেছে। বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার হাওর-সংলগ্ন এলাকার প্রায় তিন লাখ পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

মুন্সীগঞ্জ : পদ্মার তীব্র স্রোতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পারাপারের অপেক্ষায় দুই পাড়েই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যানজটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা।

"