গরু-ছাগলের মতো ভেড়াকেও জনপ্রিয় করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভেড়ার উৎপাদন বাড়িয়ে তা বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে সমবায় গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ভেড়ার উৎপাদন বাড়াতে এই খাতে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশি ভেড়ার পশম, পাট ও সুতার মিশ্রণে তৈরি বিভিন্ন পণ্য হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর আমলে সমবায়ের ভিত্তিতে ‘মিল্ক ভিটা’ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সমবায় ভিত্তিতে করলে তারা বাজারজাতকরণের সুবিধা পাবে। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা কো-অপারেটিভের মাধ্যমে দিতে পারি, তাহলে সেটার বাজারজাতকরণের সুবিধাটাও তারা পাবে। কাজেই আমি মনে করি, ওভাবে আমাদের একটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাতে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।’

ভেড়ার মাংসে ছাগলের চেয়ে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকিও কম। এছাড়া ছাগলের চেয়ে কষ্টসহিষ্ণু পরিবেশে বেড়ে ওঠা ভেড়ার লোম ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেড়ার মাংসের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো তেমন জনপ্রিয় হয়নি। ভেড়ার চাষও তুলনামূলক কম।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৪ লাখ ভেড়া রয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ৩২০০-৩৪০০ টন পশম পাওয়া যায়। দেশে ‘বরেন্দ্র’, ‘যমুনা’ ও ‘উপকূলীয়’ নামে তিন প্রজাতির ভেড়া রয়েছে। এসব ভেড়ার ওজন ১৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়।

তিনি আরো জানান, বিদেশ থেকে বেশি ওজনের তিন প্রজাতির ভেড়া আনা হয়েছে। এসব ভেড়া থেকে ২৮টি বাচ্চাও হয়েছে। গরু পালনের মতো ভেড়া পালনেও ৫ শতাংশ হারে ঋণ দিলে ভেড়া পালন আরো বাড়বে।

সহজ ঋণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাভী পালনে আমরা যদি ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারি, তাহলে ভেড়া, ছাগল, মোষ- এগুলোতে দিতে পারব না কেন? দিলে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।... তবে, শুধু উৎপাদন করলেই তো হবে না। সেগুলো যদি সঙ্গে সঙ্গে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না করে দেই, তাহলে কিন্তু কোনোটাই টিকবে না। স্থায়ী হবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কিন্তু গরু ও ছাগল কোরবানি দেওয়ারই রেওয়াজটা আছে। এখনো ভেড়া কোরবানির ব্যাপারে কোনো আগ্রহ কারো নেই, দেয়ও না। ... এগুলো আস্তে আস্তে উৎসাহিত করা যায়।’

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভেড়ার পশম ও পাট মিলিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্যান্ট ও ব্লেজারের কাপড়, শাল, কম্বল, জায়নামাজ, পাপোশ, ডাইনিং ও ফ্লোরম্যাট। ভেড়ার চামড়া ও পাটে তৈরি এসব পণ্য এখনো বাজারে ছাড়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সচিব।

পণ্যগুলো তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেগুলো বাজারজাতকরণের নির্দেশ দেন। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব পণ্য বিদেশেও পাঠানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ভেড়ার মতো অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মাংস ছাড়াও হাড় ও চামড়া থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিরও আহ্বান জানান তিনি। ধান এবং মাছসহ বিভিন্ন ফসল ও খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পেছনে গবেষণার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গবেষণার ওপর গুরুত্ব না দিলে এগুলো কিন্তু হতো না। গবেষণার মাধ্যমে আমরা কিন্তু অনেক কাজ করতে পারি।’

ভেড়ার পশমের সঙ্গে পাট মিলিয়ে পণ্য তৈরি করলে পশম আমদানি কমার পাশাপাশি পাটেরও চাহিদা সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কালো ছাগল উৎপাদনসহ অন্যান্য দুগ্ধ ও প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পদক্ষেপের কারণে দেশ সব দিক দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ একসময় পুষ্টিহীনতায় ভুগত; এক বেলাও খাবার পেত না। এখন বাংলাদেশে তা নেই।’

"