বন্যার আরো অবনতি

বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকটের পাশাপাশি শিক্ষাকার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। নতুন করে বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিলেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বন্যা-দুর্গত এলাকার স্কুল। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে আজ কিংবা কাল।

কুড়িগ্রাম : চিলমারী উপজেলার কাচকোলে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ৫০ মিটার বাঁধ ও রৌমারীর যাদুরচরে কত্তিমারী বাজার রক্ষাবাঁধ ভেঙে নতুন করে ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাত উপজেলার ৪২ ইউনিয়নের ৫০০ গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ সাত দিন ধরে পানিবন্দি। বুধবার বিকেলে বন্যার পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন চিলমারীর শাখাহাতি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে লাইলী বেগম (২৮) ও সদর উপজেলার খামার হলোখানা গ্রামের পনির উদ্দিনের ছেলে হামিদুল হক (১৭)। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিলেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে ৮৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বগুড়া : বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেখানেও খাবার আর পানি সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসিদের। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধুনটের ৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষরা গৃহ হারিয়ে এখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। তাদের মধ্যে অনেকে বাড়ির অংশ ভেঙে নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যšত্ম যমুনা নদীর পানি আর বাড়েনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৩০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এখানেও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি ঢুকে পড়ায় ১৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বন্যা প্লাবিত লোকেরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, কোথাও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙেনি। সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে বুধবার রাতে স্বপ্না খাতুন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলার কাবিলপুরে পিনহা নামে দুটি শিশু মারা যায়। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

জামালপুর : যমুনা নদীর পানি বেড়ে নতুন করে বকশীগঞ্জ উপজেলার আরো চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার সংকট চলছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। জেলার ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চলের এলাকা ও ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে যেতে শুরু করেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন উঁচু রাত্মায় আশ্রয় নিয়েছেন। ওই বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের বলিয়াদহ গ্রাম আর নদী একাকার হয়ে গেছে। বলিয়াদহ নদীর দুই পাড়ের দুটি গ্রাম যেন পানিতে ভাসছে। ওই গ্রামের গিয়াসউদ্দিন নিজ বাড়ির উঠানে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আঙ্গরে গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ তিন ধরে পানিবন্দি। কারো বাড়িতেই রান্না করে খাবার জো নাই। তারা শুকনো খাবার ও বিস্কুট চেনাচুর খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।’

মৌলভীবাজার : হাওরের ফসল হারিয়ে কৃষকরা পড়েছেন গো-খাদ্য সংকটে। এবার ফসল গেছে, সেই সঙ্গে গেছে পশুর খাদ্যও। কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার কৃষকরা গো-খাদ্যের সংকটে কম দামে বিক্রির করছেন গরু-ছাগল। জেলা প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেছেন, ধানের খড় খাইয়ে বর্ষায় হাওর এলাকা কৃষকরা তাদের গরু পালন করেন। কিন্তু এবার ফসলহানির কারণে কৃষকের ঘরে খড় নেই। এ কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

"