প্রথম কলাম

লন্ডন অগ্নিকান্ডে মৃতের ছবি ফেসবুকে দিয়ে জেলে

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে নিহত এক ব্যক্তির লাশের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় পাশের ভবনের এক বাসিন্দাকে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত ওমেগা মোয়াইকাম্বো (৪৩) লাশের ব্যাগের মুখ খুলে বিকৃত হয়ে যাওয়া মুখমন্ডলের ছবি পোস্ট করার পর গত বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল। এরপর ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে গত শুক্রবার তাকে তিন মাসের দন্ড দেওয়া হয়।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, মোয়াইকাম্বো যে ব্যক্তির লাশের ছবি তুলেছিলেন, তিনি আগুন থেকে বাঁচতে টাওয়ারটি কোনো ফ্লোর থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পূর্ব লন্ডনের নর্থ কেনসিংটন এলাকায় ২৪ তলা গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে। পরদিন দুপুরের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩০ জন, যাদের অনেকের লাশ পুড়ে বা বিকৃত হয়ে যাওয়া পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মেইল অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেনফেল টাওয়ারের কয়েক গজ দূরের একটি ভবনে বাস করা মোয়াইকাম্বো টাওয়ারটিকে রাতভর আগুনের গ্রাসে যেতে দেখেছেন। আগুন নেভাতে কাজ করা অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যর জন্য কফিও বানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু পরদিন বুধবার সকালে তার ফ্ল্যাটের বাইরে একটি লাশের ব্যাগ দেখে আইপ্যাডে সেটির ছবি তোলার পর সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউটর টম লিটন বলেন, তিনি প্রথমে লাশের ব্যাগের একটি ভিডিও ও দুটি ছবি আপলোড করেন। পরে লাশের ওপরের অংশ ও মুখম-লের আরো পাঁচটি ছবি দেন, যাতে লাশটি থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। বাঁচার আশায় লাফিসে পড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখানো ওই ব্যক্তির লাশটি মর্গে নেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল বলছেন তিনি। গ্রেফতারের পর মোয়াইকাম্বো তার আইপ্যাড ও ফোনের পিন নম্বর পুলিশকে দিলে ওই সব ছবি সরানো হয় বলে জানায় মেইল।

আসামির আইনজীবী মিশেল ড্যানি আদালতে বলেন, লাশটি অবহেলায় পড়ে ছিল, তাই স্বজন বা পরিচিত কারো দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ওই সব ছবি পোস্ট করেছিলেন মোয়াইকাম্বো। তবে আসামিকে উদ্দেশ করে তাকে সাজা দেওয়া ডিস্ট্রিক্ট জজ তানওয়ির ইকরাম বলেন, ‘সব সময় মৃতের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ওই সব ছবি আপলোড করে আপনি হতভাগ্য সেই ব্যক্তির প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। ওই সব ছবি দেখে বিরক্ত হয়ে মোয়াইকাম্বোর প্রোফাইলে মেসেজ পাঠিয়ে অনেকেই ‘এটা খুবই অসুস্থ মানসিকতা, পুলিশকে ফোন করুন’ এবং ‘ছবি পোস্ট না করে পুলিশকে ডাকুন’ বললেও ছবি সরাননি তিনি। মোয়াইকাম্বোর বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকা এবং অনুতপ্ত হওয়ায় তাকে তিন মাসের কারাদ- ও ২০০ ইউরো জরিমানা করেছেন আদালত।

"