টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ

বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:০০

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দুজন ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন না। বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতেই এবার এসব ডিলার টিসিবি থেকে পণ্য উত্তোলন করেননি। তাই খোলাবাজার থেকে বেশি দামে তেল, ডাল ও চিনি কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে একজন টিসিবি ডিলার বলেছেন, সরকারি দামের সঙ্গে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলালে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে তাদের পোষায় না। তাই এবার পণ্য তোলা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে দ্রব্যমূল্য কম রাখতে দুর্গাপুর উপজেলার দুটি স্থানে পণ্য বিক্রির জন্য দুজন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে টিসিবি। নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা হলেন থানা মোড়ের মেসার্স আব্দুর রশিদ এবং সিংগার মেসার্স নূর মোহাম্মদ। শর্ত না মানায় মেসার্স নূর মোহাম্মদের ডিলারশিপ বাতিল করেছে টিসিবি। টিসিবির মনোনীত ডিলারদের এই নির্ধারিত স্থানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও এবার তা করা হচ্ছে না। গত রমজানেও এই দুটি স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়নি। এর ফলে এলাকার মানুষকে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে জিনিসপত্র কিনতে হয়।

জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রতি কিস্তিতে একজন ডিলারের অনুকূলে ৫০০-৬০০ কেজি চিনি (বিএসএফআইসি), ৩০০-৪০০ কেজি মসুরডাল (অস্ট্রেলিয়া উৎসের মাঝারি সাইজ), ৫০০-৬০০ কেজি ছোলা (অস্ট্রেলিয়া উৎসের) এবং ৩০০-৪০০ লিটার সয়াবিন তেল (পুষ্টি ব্র্যান্ডের ৫ লিটার পেট বোতল) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার টিসিবি থেকে এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি চিনি ৫৫, মসুরডাল ৮০, ছোলা ৭০ এবং সয়াবিন তেল (প্রতি লিটার) ৮৫ টাকা। অথচ খোলাবাজারে প্রতি কেজি চিনি ৭০-৭৫, মসুরডাল ৮০-৮৫, ছোলা ৮০-৮২ এবং সয়াবিন তেল (প্রতি লিটার) ১০৫-১০৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিসিবির নিয়োগপ্রাপ্ত এই ডিলার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে বাড়তি মুনাফার আশায় এবার টিসিবি থেকে পণ্য উত্তোলন করেননি। এর প্রভাব পড়েছে খোলাবাজারে। ফলে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো পকেট কাটছে সাধারণ মানুষের।

রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর সদরের বাসিন্দা মোসলেম সরকার বলেন, ‘ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য টিসিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা পণ্য বিক্রি না করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। শুধু তা-ই নয়, টিসিবির সঙ্গে তারা যে চুক্তি করেছেন, তাও ভঙ্গ করেছেন। এতে আমরা বাজার থেকে বেশি দামে চিনি, ডাল, চাল ও তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছি।’

টিসিবির ডিলার আব্দুর রশিদ সরকার জানান, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে টিসিবির পণ্যের মূল্যের ফারাক খুব বেশি নয়। রাজশাহী থেকে পণ্য আনা বাবদ পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিটিয়ে লাভ হয় না। তাছাড়া টিসিবির পণ্যের মানের ব্যাপারে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। তাই এবার পণ্য উত্তোলন করা হয়নি।

টিসিবির রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের জেটি সুপারভাইজার জামাল হোসেন জানান, দুর্গাপুরে দুইজন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে শর্ত ভঙ্গ করায় মেসার্স নূর মোহাম্মদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একজন ডিলার আছেন, কিন্তু এখনো তিনি কোনো পণ্য উত্তোলন করেননি।

এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো ডিলার যদি পরপর দুইবার বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন না করেন, তাহলে তার ডিলারশিপ বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে। সেই সঙ্গে তার জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে খোলাবাজারে কম মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য জেলা-উপজেলায় ডিলার নিয়োগ করে।

"