ধ্রুবর মামলা প্রত্যাহারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিডিনিউজের সাংবাদিক গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এক বিচারকের করা মামলা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারে আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদকদের সংগঠন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

ক্র্যাবের সভাপতি আবু সালেহ আকন্দ বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহার করা না হলে রোববার থেকে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করব। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি কালাকানুন বলে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মহল। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারো মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদ- এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা।

৫৭ ধারাকে কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে, হাইকোর্ট রুলও দিয়েছেন। সমালোচনার মুখে আইনের ধারাটি বাতিলের আশ্বাস দিয়ে আসছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। গতকাল বৃহস্পতিবারের মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, চলতি সংসদ অধিবেশনেই ৫৭ ধারা বাতিল হবে বলে আমি আশা করি।

গত ১১ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যাতে মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাড়িবদলের কারণে একটি অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথ আটকে যাওয়ার কথা বলেন স্থানীয়রা। ওই বিচারকের মানিকগঞ্জ শহরের রিজার্ভ ট্যাংকি এলাকার বাড়ি বদলানোর সময় মালামাল পরিবহনের ট্রাক ওই এলাকার এক অধ্যাপকের অসুস্থ শিশুর হাসপাতালে নেওয়ার পথ আটকে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তখন দুই পক্ষের বাকবিত-াও হয়। এই ঘটনা নিয়ে আদালতের এক কর্মচারী একটি মামলা করেন ওই শিশুটির মামা এবং স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে; প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর ১৩ জুন বিচারক মাহবুবুর রহমান মানিকগঞ্জ সদর থানায় গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন।

"