বনানীতে একসঙ্গে আরো চার যুবক নিখোঁজ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানী থেকে একসঙ্গে আরো চার যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে পাঁচ তরুণ নিখোঁজের পর এবার আরো চার তরুণ নিখোঁজের ঘটনা ঘটল। তাদের মধ্যে তিনজন বনানীর একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এই তিনজনের মধ্যে দুজন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা হলেন হাসান মাহমুদ (২৬), ইমাম হোসেন (২৭), কামাল হোসেন (২৪) ও তাওহীদুর রহমান (২৬)। গত ৩ জুন তারা নিখোঁজ হয়েছেন বলে তাদের স্বজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বনানী থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে হাসান, ইমাম ও কামাল বনানী এলাকার একটি আইটি ফার্মে চাকরি করেন। অপরজন তাওহীদুর রহমানের বাবা মহাখালী এলাকার একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন। এ ছাড়া নিখোঁজ তিনজন চট্টগ্রামের একই পরিবারে বিয়ে করেছেন। বনানী থানার উপপরিদর্শক বজলুর রহমান জানান, গত ৩ জুন রাতে কামালের মামা রশিদ আলম থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, ওই দিন থেকে তার ভাগিনা কামাল ও তার সহকর্মী হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তাদের আরেক সহকর্মী ইমামের সহযোগিতা চাইলে ওই দিন বিকেলে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়িতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ও কামালের একটি ছবি দিয়ে খুঁজতে সাহায্য চান। এর পর থেকে ইমামেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, ৪ জুন ইমাম হোসেনের বাবা বিল্লাল হোসেন ছেলে নিখোঁজ হয়েছে মর্মে থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এই দুই জিডি তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই দিন থেকে তাওহীদুরও নিখোঁজ রয়েছেন। বজলুর রহমান বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে কামাল নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডের জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে ইন্টারকম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও টেলেক্স লিমিটেড নামে একই মালিকের দুটি প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি শুরু করেন। ইমাম ও হাসান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রিপল-ই থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করে টেলেক্স লিমিডেটে চাকরি নেন। হাসান ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও ইমাম, সেখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তাওহীদ কোনো কাজ করতেন না। তবে তার বাবা মহাখালীর একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তা ছাড়া হাসান, ইমাম ও কামাল চট্টগ্রামে একই পরিবারে বিয়ে করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে একসঙ্গে চার যুবক নিখোঁজ হয়েছিলেন। তারা হলেন সাফায়েত হোসেন, জায়েন হোসেন খান পাভেল, সুজন ও মেহেদী হাওলাদার। তাদের মধ্যে সাফায়েত ও পাভেল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

গত ১৮ এপ্রিল মেহেদী হাওলাদার এবং ২৮ মে সুজন ও পাভেলকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিয়ে যান অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। তবে এখনো সাফায়েত হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া গত বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটা এলাকা থেকে কেয়ার মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান ফরহাদ ও ৫ ডিসেম্বর বনানী এলাকা থেকে সাঈদ আনোয়ার খান নামে আরাে দুই তরুণ নিখোঁজ হন। তাদের সন্ধান এখনো মেলেনি। কে বা কারা এবং কেন তাদের তুলে নিয়েছিল এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য মেলেনি।

"