বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম চুরির সময় ট্রাক আটক

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪৫০ মেগাওয়াট (নর্থ) প্রজেক্টের অতিরিক্ত মালামাল রাতের আঁধারে পাচারের সময় তিন ট্রাক গ্যাস পাইপ ও তিন ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে উপজেলার আশুগঞ্জ বন্দর এলাকা থেকে একটি ও বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ট্রাক দুটিসহ মোট তিনটি ট্রাক ও চালকদের আটক করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে-নতুন এই ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাসের যোগসাজশে এই মালামালগুলো রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছিল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আশুগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে আশুগঞ্জ নৌবন্দর এলাকায় একটি ট্রাকে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত চুরির মালামাল রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামালসহ ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশ। এদিন রাত সাড়ে ১১টার সময় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দুটি ট্রাকে করে মূল্যবান গ্যাস পাইপ পাচার করা হচ্ছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মালামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ট্রাকদুটিসহ দুজন চালককে আটক করে পুলিশ। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্টের একটি বেসরকারি ইউনিট ৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এগ্রিকো পাওয়ার প্লান্ট থেকে দাবি করা হয় দুটি ট্রাকের মালামাল তাদের তবে এর পক্ষে কোনো যৌক্তিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম কামরুজ্জামান জানান, ট্রাক তিনটিসহ এর চালকরা থানায় আটক আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও এই মালামালের বৈধ কাগজপত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে চাওয়া হয়েছে। এখনো থানায় মালামালের পক্ষে বৈধ কোনো কাগজ থানায় এসে পৌঁছায়নি। যদি বৈধ কাগজপত্র পাওয়া না যায় তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন-৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন (নর্থ) ইউনিটের মালামাল এগুলো। রাতের আঁধারে বিভিন্ন সময়ে এই ইউনিট থেকে অনেক মালামাল পাচার হচ্ছে। আর এতে বিশাল কমিশন নিয়ে সহায়তা করছেন এই প্রকল্পের পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস। তার নির্দেশেই এই মালামালগুলো ওয়্যার হাউজ থেকে রাতের অন্ধকারে পাচার হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এই মালামাল কোথা থেকে আনা হয়েছে তা আমার জানা নাই। আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি ৪৫০ মেগাওয়াট (নর্থ) প্রজেক্টের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার জানা নাই।

"