শিশু আবদুল্লাহ হত্যায় একজনের ফাঁসি

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলছাত্র আবদুুল্লাহকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে এক আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে শিশু আইনে ১০ বছরের সাজা এবং এক নারীকে এক বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলমকে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

হত্যায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলেও আসামি মেহেদী হাসান শামীমের বয়স ঘটনার সময় ১৮ বছরের কম হওয়ায় ২০১৩ সালের শিশু আইনে তার ১০ বছরের সাজার রায় দেওয়া হয়। অপর আসামি মিতু আক্তারকে এক বছরের কারাদন্ডের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন বিচারক। এ ছাড়া অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ না হওয়ায় নাসিমা বেগম নামের আরেক আসামি খালাস পোয়েছেন।

আদালতে উপস্থিত আবদুুল্লাহর মা রিনা বেগম রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, এ রায় আমি মানি না। আমি আপিল করব। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ের কপি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহকে অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

তাকে মুক্ত করার জন্য পরিবার দুই লাখ টাকা দিলেও অপহরণের দিনই আসামিরা ১১ বছর বয়সী আবদুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে শিশুটির লাশ ভরে রাখা হয় প্লাস্টিকের ড্রামে। চার দিন পর আবদুুল্লাহর বাবার আপন চাচা মোতাহার হোসেনের বাড়িতে ওই ড্রাম থেকে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আবদুল্লাহর নানা মারফত আলী ওই বছর ৩১ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্তের মধ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন মামলার মূল আসামি মোতাহার হোসেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৯ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ২০ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন।

"