ইফতার অনুষ্ঠানে এমপি তাজুল ইসলাম

তান্ডব প্রতিরোধকারীদের রাজাকার বানানোর ষড়যন্ত্র রুখে দিন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বলেছেন, দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের তান্ডবের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছিল আজ তাদের রাজাকার বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ঢাকায় বসে কতিপয় নেতা আওয়ামী লীগের দরদি সেজে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাদের প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। ঢাকাস্থ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি তাজুল ইসলাম এই কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা. মিলন হলে গতকাল বুধবার আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগ, সাবেক-বর্তমান, পেশাজীবী ও বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাজীব কুমার সাহার সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

মো. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সংসদীয় আসনের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। বক্তারা এমপি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিজয়ী করে তাজুল ইসলামকে সেই সংসদে মন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করেন।

বক্তারা বলেন, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে কিছু ষড়যন্ত্রকারী তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। আগামী নির্বাচনের আগে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

এমপি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে ভূমিকা রাখছেন। আর তার হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। দীর্ঘ ২৩ বছর নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করেছি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেয়। দলের নেতাকর্মীরা আমাকে জীবনবাজি রেখে নির্বাচিত করেন। আমি ওইসব ত্যাগী নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমি এমপি হয়েছি এবং এলাকার উন্নয়ন করার সুযোগ পেয়েছি।’

এমপি তাজুল ইসলাম বলেন, সংসদে এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দের জন্য বক্তব্য দিয়েছি। জনগণের ত্যাগের কথা বারবার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়েছি। এটাই আমার প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলেছি। যুবসমাজকে সন্ত্রাস এবং মাদকমুক্ত করেছি। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত দেশব্যাপী যে তান্ডব চালিয়েছিল, লাকসাম-মনোহরগঞ্জে আমি নিজে মাঠে থেকে তা মোকাবেলা করেছি। তাদের হামলা আমি ব্যক্তিগতভাবে মাঠে থেকে মোকাবেলা করেছি। এ জন্য পকেটের অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। এসব করেছি দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে। ওই সময় মাঠে থেকে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মোকাবেলা করেছিল তাদের নতুন কমিটিতে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করেছি। কারণ আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে শক্তিশালী হয়েছে। গত ২৩ বছরে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বিএনপি-জামায়াতের তা-বের বিরুদ্ধে যাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, আজ তারাই ঢাকায় বসে লেখালেখি করছেন। দলের বিরুদ্ধে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। তারা আওয়ামী লীগের জন্য দরদ দেখাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে যারা প্রাণবাজি রেখেছিলেন তাদের হাইব্রিড বলছেন। এমনকি যারা ছাত্রলীগ করেছেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের রাজাকার বানানো হচ্ছে।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীর ভূয়শী প্রশংসা করে তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি তিতুমীর, তেজগাঁও ও ঢাবিতে ছাত্রলীগ করেছেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত ওই কেন্দ্রের ভোট কেটে নিতে চাইছিল, কাইয়ুম সাহেব ওইদিন আমাকে ফোন না করলে শুধু আমি পরাজিত হতাম না, দলের পরাজয় হতো। দলের বিভাজনকারীদের বিষয়ে সর্তক থেকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মহফিলে বক্তব্য দেন আতাউর রহমান, ওমর ফারুক, আবদুল হালিম দিদার, সেলিম কাদের চৌধুরী, আবদুল্লাহ তারেক ভুইয়া, আবদুল মান্নান মনু, আবুল খায়ের ও তাবারুল্লাহ কায়েস, এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

"