অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমে গতি আনতে তৎপর সরকার

এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বেকারদের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি চাঙ্গা হবে

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত গড়তে নেওয়া সরকারের বেশ কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে তৎপর এখন সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক নির্মাণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বেকারদের কর্মসংস্থান যেমন হবে পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাও সচল হবে।

গত ১২ এপ্রিল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিসি এর মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে গ্রহণ করা হয়েছে একটি কর্মপরিকল্পনা। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকার এসব অথনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ও বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে। এরমধ্যে মিরসরাইয়ে ও কুষ্টিয়ায় গঠিত হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ ছাড়া যমুনা নদীতে জেগে উঠা চরে সিরাজগঞ্জ-২ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সন্দ্বীপ ও তদসংলগ্ন এলাকার চর ভরাট করে ৭০০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহেশখালী বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চল ও মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চলবে অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্প স্থাপনের কার্যক্রম।

এসব জোনের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে বিভিন্ন সময়ে সভা আহ্বান করে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া এবং সৃষ্ট জটিলতার সমাধান দেওয়া হয় এ সভা থেকে। কারণ অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের পূর্বশর্ত হলো অবকাঠামো নির্মাণ। এ জন্য সড়ক প্রশস্তকরণ, রেল যোগাযোগ স্থাপন, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সুবিধা নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি সব জোনের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক নয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডেভেলপার কর্তৃক শিল্প কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম এবং ইউনিট ইনভেস্টর আনয়নের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সভায় ডেভেলপারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্তাবলি পরিপালন নিশ্চিত করা এবং তার উন্নয়ন কাজের মনিটরিং জোরদার করতে তাগিদ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ বেজা। জামালপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের রেল যোগাযোগ নেটওর্য়াক স্থাপনের জন্য ফিজিবিলিটি সমীক্ষা কাজ সম্পন্ন করা এবং পরামর্শক নিয়োগের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক। কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি নির্মাণ হচ্ছে। এ সিটি সংলগ্ন বিটিসিএসের ৯৭.৩৩ একর জমি এর অনুকূলে বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু স্থায়ী বরাদ্দের জন্য নিবন্ধন দরকার হলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই কর্তৃপক্ষের থেকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হওয়ায় ভবিষৎ জটিলতা এড়াতে দ্রুত পার্কটির অনুকূলে জমিটি নিবন্ধন ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্ক কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছে। আর সিলেটে ইলেকট্রনিক্স সিটি নির্মাণের জন্য ডেভেলপার নিয়োগের জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে দেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একটি মতামত দিলেও অন্যটির মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের মতমত পেতে পদক্ষেপ নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক যশোর, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, নাটোর এবং রাজশাহী হাইটেক পার্কের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয় প্রকল্পের পর্যালোচনা সভায়। এ ছাড়া ১২টি জেলায় আইট ভিলেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেখানে সম্ভব্য জটিলতা দূর করে এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই সভা থেকে। নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক জোন ও হাইটেক পার্ক স্থাপন অপরিহার্য। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম গতিময় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও বিভিন্ন সেক্টরের প্রদত্ত প্রণোদনাসমূহের মধ্যে সমন্বয় করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে মহাপরিচালক পদ মর্যাদার একজনকে আহ্বায়ক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেজা, ইপিজেড ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একজন করে প্রতিনিধিকে এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

"