সাফারি পার্কে দুই জিরাফের মৃত্যু তদন্তে কমিটি

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০০:০০

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হঠাৎ করে পরপর দুটি জিরাফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার সকালে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি জিরাফের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বছর দেড়েক আগে একইভাবে আরেকটি জিরাফ মারা যায় সেখানে।

এসব প্রাণী মৃত্যু ঘটনায় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আবদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃত জিরাফ দুটির ময়নাতদন্তের পরে শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা বিশেষ পরীক্ষার জন্য প্রাণী রোগ বিজ্ঞান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপর সাফারি পার্ক সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। খবর পেয়ে রাতেই প্রকল্প পরিচালক পার্কে ছুটে আসেন। পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানায়, ২০১৩ সালের পর থেকে কয়েক দফায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে মোট দশটি জিরাফ আমদানি করা হয়েছিল। জিরাফগুলো আফ্রিকান সাফারি বেষ্টনীতে অবমুক্ত করা হয়। আফ্রিকান সাফারি বেষ্টনীতে অন্য সব জেব্রা, অরিক্স, ওয়াল্ডবিস্ট, গ্যাজেল, কমনইলান্দসহ অন্য প্রাণীদের সঙ্গে কয়েক শ একর গভীর অরণ্যে অবাধে বিচরণ করতে থাকে জিরাফগুলো। গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ একটি জিরাফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সারারাত ধরে চলে চিকিৎসা। গত বুধবার সকালে একই কায়দায় আরেকটি জিরাফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা পরপর দুটি জিরাফ মারা গেল। উচ্চমাত্রার ওষুধ দিয়েও বাঁচানো যায়নি। তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল জলিল জানান, ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা কোনো ব্যাকটেরিয়াল ডিজিসের (রোগ) সংক্রমণ। তবে এটা সুনিশ্চিত হতে মৃত প্রাণীর শরীরের বিশেষ বিশেষ অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার প্রাণী রোগ গবেষণাগার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ও রোগ পরীক্ষাগার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেতে দুই থেকে আড়াই মাস লাগতে পারে। তিনি আরো জানান, সুস্থ অন্য জিরাফদের নিয়মিত এন্টি ভাইরাল চিকিৎসা চলছে।

প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রধান বন সংরক্ষক শামসুল আজম বলেন, রোগের কারণ এখনো নির্ণয় করা যায়নি। এখন সুস্থ জিরাফদের সুরক্ষার কথা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মারা যাওয়া দুটি জিরাফই ফিমেল (নারী) ছিল।

"