অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ভবন বিক্রি, পড়ালেখা বন্ধ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০০:০০

জাহাঙ্গীর হোসেন, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সুন্দ্রাকালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসেলিটিজ বিভাগ ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবন বিক্রি করতে হলে স্কুল পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা অফিসের ডিজির কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করতে হয়। এসব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা ও বিকল্প শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা না করে বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রেখে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয় বন্ধ ও ভবন ভাঙার বিষয় জানানো হয়নি বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন তিনি সব নিয়ম মেনেই বিদ্যালয় ভবন বিক্রি করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৭-৮ জন লোক ভবনটি ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লাইব্রেরি কক্ষে রাখা বইগুলো মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, যারা ভবন ভাঙছেন তারা প্রভাবশালী। কি কারণে বিদ্যালয়টির ভাঙা হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর সহায়তায় বিদ্যালয়টি নদীর নিকটবর্তী দেখিয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নিয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রধান শিক্ষক মৌখিকভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা।

প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সভাপতির নির্দেশে ভবনটি বিক্রি করেছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গাজী মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, নদীর তীরবর্তী হওয়ায় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় ভবনটি বিক্রি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ এবং ভবন বিক্রির বিষয় আমি কিছু জানি না। যদি বিদ্যালয় বন্ধ থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"