ঠাকুরগাঁওয়ে সুদের টাকার দ্বন্দ্বে আম ব্যবসায়ী খুন

গ্রেফতার ৩ আসামি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে এক আম ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা এ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল বুধবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলো পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের ভাবদা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২)। সে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল। এছাড়াও একই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের দরিমান আলীর ছেলে বেলাল হোসেন (২৩), সে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও জগথা গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে রোকনুজ্জামান (২৩), সে স্থানীয় একটি ইটভাটায় কাজ করে। নিহত আশরাফ আলী (৫৫) পীরগঞ্জ উপজেলা কোশারানীগঞ্জ ইউনিয়নের দলপতিপুর গ্রামের প্রয়াত কালু মোহাম্মদের ছেলে। তিনি আম ব্যবসায়ী ছিলেন।

গত সোমবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের খটসিঙ্গা বাজার এলাকা থেকে আম ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর ছোট ভাই জহিরুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, মামলার প্রধান আসামি পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগী পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেলাল হোসেন ও ইটভাটায় কর্মরত রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতারের পর তারা হত্যার বর্ণনা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, এক বছর আগে আম ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর কাছ থেকে সুদের ওপর ৫ লাখ টাকা ধার নেয় সাদ্দাম হোসেন। সুদসহ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা সাদ্দাম হোসেনের কাছে পাওনা ছিল আশরাফ আলীর। এ টাকা নিয়ে সাদ্দাম হোসেন ও আশরাফ আলীর মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

গত রোববার আশরাফ আলী তার পাওনা টাকা চাইতে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ভারতি রানীর অফিস কক্ষে কর্মরত সাদ্দাম হোসেনের কাছে যায়। এ সময় সাদ্দাম হোসেন ও আশরাফ আলীর মধ্যে বাগ্বিত-া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন মুঠোফোন তার সহযোগী পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেলাল হোসেন ও ইটভাটায় কর্মরত রোকনুজ্জামানকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষে ডেকে আনে। রাত ৮টায় সাদ্দাম হোসেনসহ তার সহযোগী বেলাল ও রোকনুজ্জামান মিলে ব্যবসায়ী আশরাফ আলীকে মারধর করে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আশরাফ আলীর লাশ গুম করার উদ্দেশে গাড়িতে করে খটসিঙ্গা বাজার এলাকার পাকা সড়কের ধারে ফেলে চলে আসে সাদ্দাম হোসেন ও তার দুই সহযোগী। এ ঘটনার পেছনে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত চলছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ভারতি রানীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ হত্যাকা-ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। গতকাল সকালেই শুনলাম আমার অফিসেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমার অফিসের সহকারী সাদ্দাম। তার কাছেই আমার অফিস কক্ষের চাবি থাকত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

 

 

"