নবাবের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৬ লাখ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ছোট বক্সনগর এলাকার মো. মনির আহমেদ। পেশায় দন্ত চিকিৎসক। ২ বছর ৪ মাস আগে শখের বসে অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রাল প্রজাতির একটি গরুর লালনপালন শুরু করেন। গরুর মালিক মনিবর এবারের ঈদে গরুটির দাম হাঁকছেন ১৬ লাখ টাকা। দামের সঙ্গে নামের মিলটা খুঁজতে তাকে প্রশ্ন করা হলো গরুটির নাম কি? প্রশ্ন করতেই মুচকি হাসি দিয়ে বললেন ‘নবাব’। কুচকুচে কালো রঙের ‘নবাবকে’ দেখতে এরই মধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা ভিড় করছে মনিরের বাড়িতে।

কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদের কাছে পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে এই জাতের গরু। ৬ ফুট উচ্চতার নবাবের ওজন প্রায় ১ টন বলে দাবি মালিকের। তাই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নবাবের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৬ লাখ টাকা।

জানা যায়, দন্ত চিকিৎসক মনির নবাবকে পরম যতেœ লালন করেছেন সন্তানের মতো। তিনি, তার ছোট ভাই পনির আহমেদ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন ‘নবাব’ এর সেবা যতেœ। নবাবের জন্য বানানো হয়েছে আলাদা শেডের ব্যবস্থা। রাখা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ইলেকট্রিক ফ্যানের সুব্যবস্থা।

সরেজমিন বুধবার দেখা যায়, গরুটির মালিক মনির পরম যতেœ নবাবকে গোসল করাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে কথা হয় মনিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক যতœ করে আমি নবাবকে দুই বছর চার মাস ধরে লালনপালন করে আসছি। গরুটির এখন বয়স ৩ বছর ৮ মাস। নবাবের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রয়েছে সবুজ ঘাস, সয়াবিনের খৈল, গম, ভুট্টা, ছোলা, পায়রা। আমিসহ পরিবারের সবাই ২৪ ঘণ্টাই নবাবের সেবাযতœ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এছাড়া নবাবকে লালনপালন করার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরো বলেন, করোনার মহামারি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই কোরবানির হাটে গিয়ে বিক্রির তেমন কোনো ইচ্ছা নেই। আমার ইচ্ছা নবাবকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করব। আশা করি, আমার চাহিদামতো দাম পাব। এরই মধ্যে নবাবকে এক নজর দেখতে দোহার ও নবাবগঞ্জের শৌখিন ও বিত্তবানরা তার বাড়িতে ভিড় করছে। এলাকার মানুষের মাঝে এক বাড়তি আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সম্পা ও মো. আনিস এ বিষয়ে জানান, নবাব নামের গরুটির মালিক মনির গরুটিকে সন্তানের স্নেহে দীর্ঘদিন ধরে লালনপালন করে আসছে। গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখতে এলাকাবাসী হিসেবে আমাদেরও ভালো লাগছে। তাই বিত্তশালীদের প্রতি আমাদের আবেদন তারা যেন ন্যায্যমূল্য দিয়ে গরুটিকে কিনে নেয়।

নবাবের মালিক মনিরের মেয়ে নুসরাত আহমেদ আদ্রিতা বলেন, আমার বাবা আমাকে যেভাবে লালনপালন করেন ঠিক নবাবকেও সেইভাবে লালনপালন করছেন। সারাক্ষণই নবাবকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বাবা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে প্রিয় নবাবকে নিয়ে স্বপ্নের বীজ বপন করছেন দন্ত চিকিৎসক মনির আহমেদ। ন্যায্যমূলেই বিক্রি হবে নবাবগঞ্জের নবাব এমন প্রত্যাশা তার।

 

"