করোনাকালে চাকরির জন্য যে দক্ষতা কাজে লাগবে

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০

বিবিসি বাংলা

করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বেই বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন, গুটিয়ে গেছে বহু ব্যবসা। যারা পেশায় টিকে আছেন তাদের কাজের ধরনও বদলে গেছে। লেখাপড়া শেষ করে যে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশ করার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা গতানুগতিকভাবে যেভাবে ভাবছিলেন, চাকরির বাজার সে রকমটি নেই।

চাকরিতে নিয়োগ বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় অনলাইন পোর্টাল বিডিজবস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলছেন, করোনায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যে ব্যাঘাত ঘটেছে তাতে প্ল্যাটফরমে চাকরিতে নিয়োগের বিজ্ঞাপন এপ্রিল মাসে ৮০ শতাংশের মতো কমে গিয়েছিল। মে মাসেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আবার বাড়লেও পরিস্থিতি আগের পর্যায়ে ফেরেনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান তা স্থগিত রেখেছে।

এত কিছুর মধ্যেও কিছু কাজে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফাহিম মাশরুর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ই-কমার্স খাতে। বিশ্বব্যাপী মানুষজন সংক্রমণের ভয়ে সরাসরি দোকানে না গিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই প্রায় সব ধরনের পণ্যের প্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে অনলাইন বিপণনে যেতে হচ্ছে।

মাশরুর বলছেন, অনলাইনে বিপণনের ব্যবসা ও এর সাইটগুলো চালাতে গেলে তার সঙ্গে নানা বিষয় যুক্ত রয়েছে।

তাই এই খাতে নিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভবিষ্যৎ কাজের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফাহিম মাশরুর বলছেন, ই-কমার্স খাতে বেশ কিছু খন্ডকালীন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যেমন ই-কমার্সের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা, ভিডিওর মাধ্যমে ইউটিউব ও ফেসবুকে পণ্যের মার্কেটিং, এসব প্ল্যাটফরমে প্রচারের ভিডিও ধারণ করার জন্য ভিডিওগ্রাফি, অনলাইন শপিংয়ের পণ্য ভোক্তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে পরিবহনের কাজ। যার একটি স্মার্টফোন ও মোটরসাইকেল রয়েছে সে কিন্তু সহজেই এই কাজটি করতে পারে। শুধু লাগবে মানসিকতার পরিবর্তন।

তিনি বলছেন, এখন যেহেতু ফিজিকাল মুভমেন্ট কম হচ্ছে তাই মার্কেটিংয়ের কাজও অনলাইনে চলে যাবে। যারা আগে কোন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পণ্যের মার্কেটিং করতেন তাদের এখন ভোক্তাদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগবিষয়ক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এসব কাজ বাড়ি বসেই করা যায়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন : ফাহিম মাশরুর আরো বলছেন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অর্থাৎ গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে কোনো কিছু খুঁজলে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকবে।

অনলাইন শপিং পোর্টালগুলো সেজন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। তার মতে ই-কমার্স যেহেতু বাড়ছে তাই এই ব্যাপারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। যা তরুণদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলছেন, ভোক্তার ক্রয় প্রবণতা সম্পর্কে গবেষণা, তার ক্রয়ের ডেটাবেজ সংরক্ষণ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে কাজে লাগে। তরুণরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের এই স্কিলটা যদি অর্জন করেন তা বেশ কাজে আসবে।

ইমেজ প্রসেসিং : এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী সদস্য সুমন আহমেদ সাবির বলছেন, একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে ও চালাতে গেলে প্রচুর ছবি লাগে এবং সেসব ছবি সাইটে দেওয়ার জন্য ইমেজ প্রসেসিং দরকার হয়।

‘যেকোনো অনলাইন শপিং পোর্টালে গেলে দেখতে পাবেন পণ্যটির কয়েকটি ছবি ও পণ্যটি সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে আকর্ষণীয় করে ছবি তুলে পণ্যটি সম্পর্কে আবেদন তৈরি করার চেষ্টা। বাংলাদেশে বসে বিদেশের প্রতিষ্ঠানের ইমেজ প্রসেসিংয়ের কাজও হচ্ছে। ছবিগুলো তোলা ও সেগুলো প্রসেসিংয়ে ভালো কাজের সুযোগ রয়েছে।

চাকরির ধরন বদল : যুব উন্নয়নে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বাসে বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা অজেয় রোহিতাশ্ব আল? কাযি। তিনি বলছেন, পার্ট টাইম কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে; কারণ ফুলটাইম হলে তাকে অনেক বেনিফিট দিতে হয়। তরুণদের এখনো কিছু চাকরির সুযোগ রয়েছে। যেমন ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস অর্থাৎ চাল, ডাল, লবণ, আলু, আটা ইত্যাদি পণ্য মহামারির আগে লোকে বাজার থেকে খোলা কিনেছে। এখন প্রবণতা হচ্ছে মোড়ক-জাত ব্র্যান্ডেড আইটেম কেনার। এসব যারা বাজারজাত করে এসব প্রতিষ্ঠানে এখনো চাকরির সুযোগ রয়েছে।

বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলছেন, অনেক দেশেই কৃষিকাজ ও খাদ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খাদ্য সংকট একটা সমস্যা হতে পারে। এরকম সময়ে কৃষি একটা বড় ভূমিকা পালন করে।

‘তরুণরা এখন ডেইরি, পোলট্র্রি ফার্ম, মাছ চাষ এসব কাজ করতে পারেন। কৃষিতে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো ভালো উৎপাদন করতে পারবে।’

হাসপাতালগুলোতে নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নার্স নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুশিয়ারি দিয়ে বলছে সহসাই করোনাভাইরাস নির্মূল হচ্ছে না। সেই হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবল চাহিদা বাড়বে। তাই তরুণরা এই বিষয়ে পড়াশোনার কথা ভাবতে পারেন, বলেন ফাহিম মাশরুর।

 

"