ভ্যাকসিনে প্রথম করোনা প্রতিরোধী হওয়ার দাবি

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন ট্রায়ালে প্রথমবারের মতো শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে ভাইরাসপ্রতিরোধী হয়ে ওঠার দাবি করেছেন এক মার্কিন যুবক। ডেভিড র‌্যাচ নামে ওই যুবকের দাবি, মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগে করোনায় আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তার শরীরে।

জানা যায়, সম্প্রতি করোনাপ্রতিরোধী ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ইমিউনোলজির শিক্ষার্থী ডেভিড র‌্যাচ। তার শরীরে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। র‌্যাচ বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রাথমিক ফল ইতিবাচক এসেছে। তবে এখনো এ গবেষণায় আরো অনেক দূর যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

র‌্যাচের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগের চূড়ান্ত ফল আসতে এখনো বেশ দেরি। কারণ উৎপন্ন অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব কত দিন এবং এ সময়ের মধ্যে র‌্যাচ করোনার মুখোমুখি হলে কতটা প্রতিরোধী ক্ষমতা দেখাতে পারবেন সেসব জানা প্রয়োজন। আগামী অক্টোবরে তার শরীরের অ্যান্টবডি পরীক্ষা করবেন গবেষকরা।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জোর প্রচেষ্টা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। একমাত্র এর মাধ্যমেই দ্রুত মহামারির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব বলে বিশ্বাস বিশেষজ্ঞদের। সেক্ষেত্রে র‌্যাচের দাবি সত্য হলে তা হবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এক অনন্য অর্জন। সূত্র : ডেইলি মেইল

৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হচ্ছে?

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রীষ্মের শেষেই ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন কাজ শুরু করবে তারা। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিএনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন চারটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিকে অপারেশন র?্যাপ স্পিড প্রোগ্রামের আওতায় আর্থিক সহায়তা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎপাদন কারখানার সুবিধা বাড়ানো ও কাঁচামাল সংগ্রহে কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, আগামী বছর নাগাদ ৩০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ তৈরি করা।

সোমবার অনলাইন কনফারেন্স কলে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কবে নাগাদ ভ্যাকসিনের বিভিন্ন উপাদান উৎপাদন ও প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে, সে সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে। এর মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে গ্রীষ্মের শেষে।’

কয়েক মিলিয়ন থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্স।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে কোভিড-১৯ থেরাপি উদ্ভাবনের জন্য ৪৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে, যা ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি। থেরাপি আরো দ্রুত উদ্ভাবন হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য তহবিল জোগাবে মার্কিন প্রশাসন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।

 

"