পারিবারিক বিবাদ থেকে সুরক্ষা চায় সামিয়া

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাবা দেশে থাকেন না, তিনি সৌদি প্রবাসী। এদিকে মায়ের সঙ্গে চাচাদের বিবাদ, বিবাদ গড়ায় মামলাতে। সেই বিবাদে কিশোরী সামিয়াকে (১৩) দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় পরিবার। মামলাটি জোরালো করতে বলা হয়, আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে হবে প্রতিপক্ষের কাছেই সে ধর্ষিত হয়েছে। মিথ্যা সাক্ষী দিতে বলা হয়। নাহলে থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর আগেও সে সাজানো মামলায় নিরাপত্তা হেফাজতে ছিল এবং তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানায় সে। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে সামিয়ার মনে। পরিবারের এই সব ঝামেলা আর পুলিশের হয়রানির আশঙ্কা থেকে বাঁচতে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের দারস্থ হয়ে এসব কথা জানায় সে। সামিয়া জানায়, তারা আপন চাচা-চাচি ও প্রতিবেশীদের ঘায়েল করার জন্য তারই মা শাহেনা বেগম তাকে নিয়ে যায় উকিলের কাছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই সে ২৬ দিন নিরাপত্তা হেফাজতে থেকে বাড়িতে এসেছে। সামিয়াকে বলা হয় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে। না হলে থানা-পুলিশের ভয়ভীতি আবার নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার হুমকি। সব মিলিয়ে তার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যাঘাত ঘটছে পড়াশোনায়। সামিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের টিঘর গ্রামে। সামিয়া স্থানীয় ব্লুবার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

পারিবারিক কলহে তার চাচাদের পরিবারের ১০ বছর বয়সি শিশুকে আসামি বানিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআইকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। বদলি হয় আরেক দারোগা। সামিয়াকে ‘অপহরণের’ অভিযোগে তার মা শাহেনা গত ২৯ মে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে টিঘর গ্রামের ইয়াছিন মিয়া (২২) সহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে সামিয়ার দুই চাচা কাশেম মিয়া ও আবদুস সাত্তার মিয়াকে আসামি করা হয়। সামিয়া অপহরণ মামলা ২৯ মে রেকর্ড হলেও তার এক দিন আগেই আসামি ইয়াছিন মিয়া ও ফয়েজ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। সামিয়াকে থানায় ডেকে এনে উদ্ধার দেখানো হয়। ভয়ভীতি দেখানো হয় অপহরণ-ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিতে। আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দিতে সামিয়া জানায়, তাকে কেউ অপহরণ করেনি এবং সে নিজেই তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। আদালতে সামিয়ার মা-মেয়েকে জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করলে মেয়ে তার জিম্মায় যেতে রাজি হয়নি। এরপরই নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অপহরণ মামলা দায়ের হওয়ার আগে ২৭ মে সামিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। এতে তার মা শাহেনা বেগম জোর করে রবিন নামে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় বলে অভিযোগ করে। বিয়েতে তার প্রবাসী বাবা মো. আবু ছায়েদের কোনো সম্মতি নেই বলেও সে উল্লেখ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাইল থানার ওসি ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেন।

অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. খলিলুর রহমান বলেন, আসামি পক্ষ এসব কথাই বলে। মামলা রেকর্ড ওসি করেন জানিয়ে এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, মা মেয়েকে পাচ্ছে না। মা অপহরণের অভিযোগ দিল। আমরা মামলা নিয়ে ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতার করি। ইউএনওর কাছে কিশোরীর দেওয়া অভিযোগের তদন্তের বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার কাছে।

 

"