হঠাৎ লাদাখে হাজির মোদি দাবি গালওয়ান ভারতের

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

গালওয়ান আমাদের, আচমকা গত এক মাসে চীনের সঙ্গে সংঘাত ইস্যুতে শিরোনামে আসা লাদাখের লেহতে হাজির হয়ে চীনকে হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফরওয়ার্ড পোস্টে মোতায়েন সেনাদের সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের বীরত্বের জন্য দেশ সুরক্ষিত আছে। শান্তির জন্য শক্তি চাই। আপনারা সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন। তার কথায়, দুর্বলরা নয়, শান্তির কথা বলতে পারেন বীরেরাই। ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন সদস্যের। গতকাল শুক্রবার ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় লেহতে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও আইটিবিপি জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল কাকভোরে উত্তেজনার আবহেই লাদাখে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। লেহ থেকে সেনার চপারে করে নিমুতে ফরওয়ার্ড পোস্টে পৌঁছান মোদি। তার সঙ্গী ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান মনোজমুকুন্দ নারাভানে। লাদাখে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে জওয়ানদের মনোবল বাড়ান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বলেছেন, ভারতীয় সেনার সাহস ও দেশমাতৃকার প্রতি তাদের আত্মনিবেদনের কোনো তুলনা হয় না। দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে বসবাসকারী প্রত্যেক ভারতীয় এই কথা বিশ্বাস করেন যে আপনারা দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। আপনারা যে উচ্চতায় রয়েছেন, আপনাদের সাহসের উচ্চতা তার চেয়েও অনেক বেশি। যে পাহাড় আপনাদের ঘিরে রেখেছে, আপনাদের হাত তার থেকেও শক্ত। আপনাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনিবেদন অটল হয়ে বিরাজ করছে।

চীনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই যুগ বিকাশের। এখানে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বা চেষ্টার জায়গা নেই। সেটা সবাইকে বুঝতে হবে। বিশ্ব শান্তির জন্য বার বার বিপদ ডেকে এনেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তবে ইতিহাস সাক্ষী, প্রত্যেকবারই তাদের পরাজিত হতে হয়েছে। ভারত শান্তির কথা বলে তবে প্রয়োজনে শ্রী কৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের পূজাও করে। আমরা হাতিয়ার ধরতে জানি। গালওয়ান উপত্যকা আমাদের। লাদাখ দেশের মুকুট। জওয়ানদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্তে পরিকাঠামো নির্মাণে খরচ তিন গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সীমান্তে আরো দ্রুত সড়ক ও সেতু তৈরি হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফর নিয়ে মুখ খুলেছে চীন। সরাসরি নাম না করে বেজিংয়ের বক্তব্য, এই মুহূর্তে কোনো পক্ষেরই উচিত নয় উসকানিমূলক পদক্ষেপ করা। তবে, ভারতীয় ভূখ-ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর কোন যুক্তিতে উসকানিমূলক, তা অবশ্য বলেনি চীন। চীনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ভারত ও চীন আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এ সময়ে কোনো পক্ষেরই উচিত নয় এমন কোনো পদক্ষেপ করা যা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলতে পারে।

এর মধ্যেই জানা যাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের আমলেই ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে চীনের সরকার। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা নিযুক্ত এক কমিশনের রিপোর্টে এই দাবিই করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জিনপিংয়ের আগে চীনের ক্ষমতায় থাকা কোনো রাষ্ট্রপতিই ভারতের প্রতি এত আগ্রাসী মনোভাব দেখাননি। ভারতের প্রতি বেজিংয়ের পররাষ্ট্র নীতি কোনোদিনই এরকম ছিল না। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে বেজিং সব সময় দিল্লির প্রতি খুব আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে। প্রতি মুহূর্তে আগ্রাসী একটা মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৩ সাল থেকে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাঁচবার বড়সড় গন্ডগোলে জড়িয়েছে তারা। সম্পর্ক ঠিক রাখতে ভারতের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করা হলেও বার বার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে চীন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঠিক করতে ও সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতে দুটি দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু প্রতিবার চুক্তি করার পরও সীমান্তে ভারতের এলাকা দখলের চেষ্টা করেছে চীন। শান্ত পরিবেশ অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে।

 

"