করোনার নতুন জাত সহজেই ঢুকছে শরীরে

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ ভাইরাস করোনা। এখন পর্যন্ত ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ। এই ভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক গবেষণা বলছে, সম্প্রতি যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তারা এই ভাইরাসের নতুুন এক স্ট্রেনে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভাইরাসটি আবারো তার নিজের চরিত্র বদল করেছে।

গবেষকদের দাবি, এই ভাইরাসের নতুন যে স্ট্রেনে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন সেটির নাম ‘ডি৬১৪জি’। এই স্ট্রেনটিই হলো ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ। কারণ ভাইরাসের এই রূপটিতেই এখন সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই দাবি করছেন। তাদের মতে, ভাইরাসের এই রূপটি অনেক ছোট। তবে ভাইরাসের উপরিভাগের ‘স্পাইক’ প্রোটিনগুলোতে কার্যকর পরিবর্তন করতে পারে। ফলে এই ভাইরাস মানুষের কোষগুলোতে প্রবেশ করতে পারে খুব সহজেই।

গবেষকরা সারা বিশ্বের ভাইরাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিআইএসঅ্যাআইডি ডেটাবেজ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল লেকচারার ডা. থুষান ডি সিলভা জানান, মহামারি শুরুর পর থেকেই আমরা শেফিল্ডে করোনার স্ট্রেনগুলো সিকোয়েন্সিং করে যাচ্ছি। আমরা দেখেছি করোনার এই রূপাটি প্রচলিত স্ট্রেনগুলো থেকে ভয়ংকর হয়ে ওঠছে। সংবাদ মাধ্যম মিররের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

এদিকে রূপান্তর প্রক্রিয়ার (মিউটেশন) মধ্যদিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন আরো একটি স্ট্রেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। গত বৃহস্পতিবার এক চিকিৎসা সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক গবেষণার সূত্রে ফাউচি বলেছেন, সম্ভাব্য মিউটেশন ও এর প্রভাবের বিষয়টি নিশ্চিত করতে গবেষণা চলছে।

ফাউচি জানান, গবষেণা বলছে, চীনের উহানে যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, তার চেয়েও ভিন্ন আরেক করোনাভাইরাসের স্ট্রেনে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে ইতালি। ভাইরাসের এই দুই স্ট্রেনের মধ্যে পার্থক্য হলো, ইতালির স্ট্রেনটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, ভাইরাসটি আরো ভয়ংকরভাবে চরিত্র বদলেছে এবং এটি আরো বেশি মানুষকে দ্রুত সংক্রমিত করতে পারে।

ভাইরাস প্রাকৃতিকভাবে পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা এর আগে বলেছিলেন, তারা করোনার ছোটখাটো মিউটেশন পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা থেকে রোগের বিস্তার বা রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা খুব বেশি প্রভাবিত হয় না।

তবে গত মাসেই ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চ সেন্টারের ভাইরোলজিস্টরা সম্ভাব্য মিউটেশনের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, মিউটেশন ভাইরাল ট্রান্সমিশন বাড়িয়ে দেয়।

 

"