গৌরীপুর ও আটঘরিয়ায় মেছোবাঘের ৪ শাবক উদ্ধার

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিরল প্রজাতির একটি মেছো বাঘের একটি শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শাবকটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় তিনটি মেছো বাঘের শাবক পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, বুধবার দুপুরে নতুন বাজার এলাকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন টুটুল। এ সময় হঠাৎ মেছো বাঘের শাবকটি দৌড়ে এসে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়লে

আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা লাঠিসোটা নিয়ে মেছো বাঘের শাবকটিকে মারতে গেলে হোসেন তারেক নামে এক যুবক শাবকটিকে উদ্ধার করে। বর্তমানে শাবকটি খাঁচায় বন্দি করে পৌর শহরের উত্তর বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অপুর দোকানের সামনে রাখা হয়েছে। এদিকে মেছো বাঘের শাবক উদ্ধারের খবর পেয়ে শাবকটি দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ছুটে আসছে। অনেকেই খাঁচার সামনে মোবাইল নিয়ে মেতে উঠছে ছবি ও সেলফি তোলাতে।

শফিকুল ইসলাম অপু বলেন, উদ্ধারকৃত শাবকের গায়ে বাঘের শরীরের ডোরাকাটার মতো দাগ রয়েছে। আমাদের অঞ্চলে এই প্রাণীটি বাঘাইল্যা নামে পরিচিত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেজুতি ধর বলেন, শাবক উদ্ধার ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, আটঘরিয়ায় উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের খিদিরপুর হাড়লপাড়া থেকে গত মঙ্গলবার তিনটি মেছো বাঘের ছানা উদ্ধার করেছে পাবনা বন বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাড়লপাড়া গ্রামে নেপিয়ার ঘাসের জমিতে মেছো বাঘের ছানাদের পড়ে থাকতে দেখেন মফিজ উদ্দিন খানের ছেলে জাফর ইকবাল। তারপর তিনি স্থানীয় সংগঠন ও পাবনা বন বিভাগকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পাবনা জেলা বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার রঞ্জিবুল আমিন ও ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া উপজেলার বন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাচ্চা তিনটি উদ্ধার করেন।

পাবনার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করি। ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহ খানেক আগে এই বাচ্চাগুলো জন্ম নিয়েছে। বাচ্চাগুলো খুব ছোট হওয়ায় আমরা ফিডারে করে দুধ পান করিয়েছি। রাজশাহী অফিসের বন্যপ্রাণী বিভাগের পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার জন্য গতকাল বুধবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ জুন উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের এলাকাবাসী একটি সাড়ে ৪ ফুট লম্বা মেছো বাঘ আটক করে। আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাঘটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে বলে আটককারীদের কাছ থেকে নিয়ে আসে। পরে বন বিভাগে জমা না দিয়ে বাঘটি পালিয়ে গেছে বলে প্রচার করে। ঘটনার আজ প্রায় প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বাঘ উদ্ধার না হওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী কর্তৃক আটককৃত বাঘ আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম তার ব্যবহৃত সরকারি জিপ গাড়ি ও একটি মিনি ট্র্রাক যার নং- পাবনা-ন-১১-০১৪৩ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তিনি স্থানীয়দের জানান, বাঘটিকে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে বাঘটিকে মসজিদের ৪ হর্নের মাইক রাখা লোহার খাঁচাসহ ট্র্রাকে তুলে দেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণ পরে বন বিভাগের কর্মকর্র্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে এলাকাবাসী তাদের জানায় উপজেলা চেয়ারম্যান বাঘটি নিয়ে গেছে। পরে বন বিভাগের লোকজন আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম তাদের জানায় আটঘরিয়ার আসার পথে দক্ষিণ নওদাপাড়া গ্রামে ট্রাকে থাকা বাঘটি খাঁচা ভেঙে পালিয়ে যায়। এ খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এলাবাসী বাঘটি ধরতে গিয়ে বাঘটির পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ট্রাকের ওপরে রাখা খাঁচা ভেঙে বাঘ পালিয়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানায়, এলাকাবাসী তাকে বাঘ আটকের কথা জানালে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অবগত করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম নিজে এসে তার লোকজনসহ বাঘটি নিয়ে গেছে। বাঘ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

বাঘ আটকের সঙ্গে জড়িত উপস্থিত অনেকেই জানান ট্রাকের ওপর দুজন পাহারাদার থাকা অবস্থায় মজবুত রডের খাঁচা থেকে পা ভাঙা আহত বাঘ কোনোভাবেই পালাতে পারে না। বাঘ আটকের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ও বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র মেহেদী হাসানসহ অনেকেই বাঘটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগে সংরক্ষণ ও রহস্যজনকভাবে বাঘ পালিয়ে যাওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন।

 

"