স্কুল প্রাঙ্গণে পাখির ছানা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের সতর্কতা হিসেবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমমেরনগর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণও নিস্তব্দ অবস্থায় রয়েছে। আর এই সুযোগে স্কুলের বারান্দার চালের নিছে একটি খুটির ফাঁকে বাসা করে সেখানে শালিক-দম্পতি তিনটি ছানার জন্ম দিয়েছে।

গতকাল শনিবার স্কুলের অফিস খুলে কিছু অফিসিয়াল জরুরি কাজ করতে গিয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান রঞ্জুর নজরে আসে স্কুলের বারান্দনার চালের নিচে খুটির এক ফাঁকে পাখির বাসায় তিনটি শালিক ছানা। সঙ্গে সঙ্গে একজন শিক্ষককে দিয়ে তিনি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ছানাগুলোর ছবি ধারণ করান।

আইডিয়াল কেজি স্কুলের সীমানা প্রাচীর এলাকায় ও পেছনের চা বাগানে গাছে শালিকসহ বেশ কিছু পাখির বাসা রয়েছে। স্কুল চলাকালীন দুপুরে শিক্ষার্থীরা টিফিন খাওয়ার সময় অনেক খাবার সামনের প্রাঙ্গণে পড়ে। আর বিকালে পাশের গাছ থেকে শালিক, বুলবুলিসহ অন্যান্য পাখিরা এসে এসব খাবার খোঁজে খায়। প্রতিদিন বিকালে আইডিয়াল কেজি স্কুলে শালিক পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। স্কুল চলাকালীনও দল বেঁধে শালিক এসে স্কুল প্রাঙ্গণে নেমে খাবার খেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী তা অবলোকন করেন তবে কোনোভাবেই শালিকের দলটিকে তাড়িয়ে দেন না। করোনার প্রভাবে স্কুল বন্ধ হলেও একটি মা শালিক নীরব স্থান খোঁজে স্কুল বারান্দার চালের নিছে খুঁটির এক কোণে নিজের ঘর তৈরি করে। সে ঘরে ডিম পেড়ে আর সেখানে তিনটি ছানার জন্মও দেয়। প্রতিদিন মা শালিক খাদ্য সংগ্রহ করে এনে নীরবে মুক্ত মনে তার ছানাদের আহার দেয়।

স্কুলের শিক্ষকরা শালিকের তৈরি ঘরে তিনটি নবজাতক ছানা দেখে আনন্দিত। শিক্ষকরা সকালে স্কুলে এসে প্রথমেই খোঁজ নেন শালিকের ঘর ও ছানারা আছে কিনা? আইডিয়াল কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান রঞ্জু বলেন, প্রতিদিন স্কুল চলাকালে টিফিনের পর এক ঝাঁক শালিক প্রাঙ্গণে নেমে শিশুদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট টিফিন খেয়ে আবার উড়ে যেত। ওই শালিকের দলে একটি শালিকের একটি পা নেই। সে শালিকটিও এসে খাবার খেত। স্কুলের সবার আলাদা টান রয়েছে এক পা-হীন শালিকের জন্য। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় বারান্দায় একটি মা শালিকের ডিম থেকে তিনটি ছানার জন্ম দিয়েছে। এতে স্কুলের সব শিক্ষক আনন্দিত। এখন সবাই নজদারি করছেন যাতে ছানাগুলো উড়তে শেখার আগ পর্যন্ত ঘরের কোনো ক্ষতি না হয় আর বিড়াল যেন কোনোভাবেই এ ছানগুলোকে খেতে না পারে।

 

"