লেখাপড়ার টাকা অসহায়কে দিয়ে জাতিসংঘ পুরস্কার

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

নিজের পড়াশোনার খরচ থেকে বাঁচানো অর্থে করোনাভাইরাসের মহামারিতে অসহায় গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন সেলুন মালিকের মেয়ে। আর সেই মানবিক কাজের ফল হিসেবে জাতিসংঘও করেছে পুরস্কৃত। ভারতের তামিলনাড়–র মাদুরাইয়ে সেই অদম্য কিশোরীর নাম এম নেথ্রা। তার বাবা সি মোহন সেলুনে কাজ করে সংসার চালান। সেলুনের কর্মী বাবা মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য কষ্টেই জমিয়েছিলেন কিছু টাকা। সেখান থেকে মেয়ের অনুরোধে প্রায় ৫ লাখ টাকা গরিব অসহায়দের সহায়তায় খরচ করা হয়। এমন মানবতার উদাহরণ সৃষ্টি করা সেই মেয়ে উদারতার পুরস্কার দিয়েছে জাতিসংঘ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেই নেথ্র্রাকে ‘গুডউইল অ্যাম্বাসাডর টু দ্য পুওর’ বা ‘দরিদ্রদের শুভেচ্ছাদূত’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জাতিসংঘ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সামান্য সেলুন মালিকের মেয়ে হয়েও যেভাবে নিজের শিক্ষার জন্য সঞ্চিত অর্থ পুরোটাই ঢেলে দিয়েছেন গরিবদের মাঝে তাতে এম নেথ্রার প্রশংসা না করে পারেনি জাতিসংঘ। তাই নেথ্রার উদ্যোগকে আরো উৎসাহিত করতে তাকে ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পিসের (টঘঅউঅচ) অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়োগ করেছে তারা। ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পিস জানিয়েছে, এম নেথ্রাকে নিউইয়র্ক এবং জেনেভাতে আয়োজিত জাতিসংঘের সম্মেলনেও বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। তামিলনাড়–র প্রতিমন্ত্রী সেল্লুর রাজু মেয়েটির প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীকে বলেছেন, যেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার নামে তৈরি সম্মাননা পুরস্কারটিও যাতে ওই কিশোরীকে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সেল্লুর রাজ বলেন, কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীও (নরেন্দ্র মোদি) মেয়েটির প্রশংসা করেছেন। তিনিও মাদুরাইকে নিয়ে গর্বিত। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সুপারিশ করতে চাই, যাতে আগামীদিনে ওই মেয়েটিকে যেন জয়ললিতা অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘মন কি বাত’ নামক একটি অনুষ্ঠানে মেয়েটির বাবা সি মোহনের প্রশংসা করেছেন। মোদি বলেছেন, শ্রী মোহন জি মাদুরাইয়ে সেলুন চালান। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিনি নিজের মেয়ের পড়াশোনার জন্য ৫ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। তবে এই দুঃসময়ে সঞ্চিত পুরো টাকাটাই তিনি দেশের অভাবী ও দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্যের জন্যে ব্যয় করেছেন। এনডিটিভি।

 

"