করোনা রুখতে হলুদ...

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই মাহামারির সময়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার না হলে কিন্তু বিপদে পড়ার ঝুঁকি ষোলো আনা। খাবারদাবারের প্রতি বাড়তি যতœশীল হয়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা চাঙ্গা করা যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে প্রাচীন কাল থেকেই যেসব খাবারকে রোগ প্রতিরোধক ও জীবাণুনাশক হিসেবে ধরা হতো, হলুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও হলুদের গুণাগুণ বিচার করে তাকে মান্যতা দিয়েছে। কাঁচা ও শুকনো হলুদের গুঁড়াতে আছে প্রচুর পরিমাণে কারকিউমিন যৌগ, যা আসলেও একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে হলেও চাই প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ হলুদ খাওয়া।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা কারকিউমিনকে ‘ম্যাজিক যৌগ’ বলেন। কারকিউমিন ছাড়াও হলুদে আছে ফোলেট যা ফলিক অ্যাসিডের মূল উপাদান নিয়াসিন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ভিটামিন কে, ভিটামিন ই, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট।

এখানেই শেষ নয়, কাঁচাহলুদে আছে ভিটামিন সি। সুতরাং রোজ নিয়ম করে কাঁচাহলুদ খাওয়া ও রান্নায় হলুদ ব্যবহার করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়। সাধারণ জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশির পাশাপাশি কোভিডের মতো অসুখকে ঠেকাতে পারে। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক অন্যতম হাতিয়ার।

‘ন্যাশানাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর আয়ুর্বেদিক ড্রাগ ডেভলপমেন্ট’-এর প্রাক্তন অধিকর্তা, আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ সুবল কুমার মাইতির মতে, খুব ভালো হয় যদি শুকনো হলুদ বেটে নিয়ে রান্নায় ব্যবহার করা যায়। এছাড়া সকালে খালিপেটে এক ইঞ্চি পরিমাণে কাঁচাহলুদ সামান্য আখের গুড় দিয়ে খেয়ে এক গ্লাস গরম জল খেলে শরীরের সব দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়।’ তবে শুকনো হলুদের চেয়ে কাঁচাহলুদে উপকার বেশি।

শরীরে ব্যথা কমাতেও হলুদ কার্যকর। অস্টিও আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ জয়েন্ট পেন কমাতে সাহায্য করে। সকালে খালিপেটে কাঁচাহলুদ খেলে প্যানক্রিয়াস উদ্দীপিত হয় ও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। ফলে ডায়াবেটিস কিছুটা প্রতিরোধ করা যায়। ডায়াবেটিসের রোগীরাও হলুদ খেলে রোগের জটিলতা কম থাকে।

হার্টের অসুখ প্রতিরোধ করতে পারে হলুদের কারকিউমিন। হৃদপিন্ডের রক্তবাহী ধমনীতে চর্বির প্রলেপ পড়ে আর্টারি সরু হয়ে গিয়ে হার্টে অক্সিজেন কমে যায়। এতে আচমকা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে হলুদ। রোজকার ডাল-তরকারিতে কিছুটা হলুদ থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার হার অনেকটাই কমে যায়। রোজ হলুদ দেওয়া রান্না খেলে মস্তিষ্কের কোষ উজ্জীবিত থাকে, বেশি বয়সে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারস ডিজিজ প্রতিরোধে সাহায্য করে হলুদ। ক্যানসার কোষের বাড়বাড়ন্ত থামিয়ে দিতে পারে হলুদের কারকিউমিন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত হলুদ ব্যবহার করলে প্রি-ক্যানসারযুক্ত পলিপ ৬০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। একই সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করে যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তাই করোনা যুদ্ধেও সঙ্গে থাকুক হলুদ।

 

 

"