আম্পানের তাণ্ডব বাজারেও গাজর ১০০, মুরগি ১৯০

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবের পর ঈদকে সামনে রেখে একদিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে সব ধরনর সবজির দাম বেড়েছে। তবে সব থেকে বেশি বেড়েছে গাজরের দাম। এক লাফে গাজরের কেজি ১০০ টাকায় উঠেছে।অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। আর কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পোলট্রি মুরগির দাম আরো বেড়ে ১৯০ টাকায় ছুঁয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে চাষিরা ঠিক মতো সবজি তুলতে পারছেন না। এছাড়া দুই দিন পরেই ঈদ। এ কারণে আড়তে ঠিকমতো সবজির গাড়ি আসেনি। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। তাই একদিনেই আড়তে সব ধরনের সবজির দাম কজিতে ১০ টাকার ওপরে বেড়েছে। তারপরও অনেক খুচরা ব্যবসায়ী আড়ত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি কিনতে পারেননি। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে

১০০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গাজরের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

গাজরের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী খলিল বলেন, এখন গাজারের মৌসুম নয়। যে কারণে কয়েকদিন ধরেই গাজরের দাম বাড়ছে। তবে গত বৃহস্পতিবার গাজরের কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকাল শুক্রবার আড়তে যে দাম তাতে ১০০ টাকার নিচে বিক্রির উপায় নেই। গাজরের সঙ্গে শসা, পটোল, ঝিঙে, পাকা টমেটো, বরবটি, করলাসহ সব ধরনের সবজির দাম একদিনের মধ্যে বেড়ে গেছে। গতকাল ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম এক লাফে বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা আগেরদিন ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বরবটি কেজি ৭০ টাকা ছুঁয়েছে, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। ঝিঙার কেজি বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কচুরলতির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে বেগুনের কেজি গতকালের মতো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জহির বলেন, ঈদের আগের সাধারণত সবজির গাড়ি কম আসে। এ কারণে কিছু সবজির দাম বাড়ে। তবে এবার দাম বাড়ার হার একটু বেশি। এর কারণ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে সবজি আসছে কম। রামপুরায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা রহিম বলেন, আড়তে সব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তারপরও অনেক সবজি আড়তে কিনতে পাওয়া যায়নি। অনেক ঘোরাঘুরি করেও এক কেজি বরবটি কিনতে পারিনি। গাজরও পাওয়া যায়নি। আড়তের লোক বলে ঈদ পর্যন্ত এভাবে চলবে। ঈদের পর সবজির সরবরাহ বাড়বে, তখন আবার দাম কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পোলট্রি মুরগির দাম আরো এক দফা বেড়েছে। এতে বাজার ভেদে পোলট্রি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা গতকাল ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। পোলট্রি মুরগির দাম বাড়লেও লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লাল লেয়ার মুরগি আগের মতো ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। মুরগির দামের বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মিলন বলেন, কয়েক দিন ধরে পোলট্রি মুরগির দাম দফায় দফায় বাড়ছে। রোজার আগে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পোলট্রি মুরগির এখন ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই। পোলট্রি মুরগির এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পরও অন্য মুরগির দাম বাড়েনি। এ কারণে এখন লাল লেয়ার মুরগি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মুরগি কিনতে আসা ফাতেমা বলন, বাজারে সবকিছুর দামে আগুন। গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল শুক্রবার সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গরু ও খাসির মাংস তো আনেক আগেই আমাদের কপাল থেকে উঠে গেছে। পোলট্রি মুরগি কিনে খাব তারও উপায় নেই। কেজি ১৮০ টাকার নিচে কোথাও মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। অবস্থা যা এবার হয়তো অনেককেই মাংস না খেয়েই ঈদের দিন কাটাতে হবে। সবজির দাম বাড়লেও স্থির রয়েছে মাছের দাম। আগের মতোই রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৫০০ টাকা। নলা (ছোট রুই) মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৭০, পাঙাশ ১৪০ থেকে ১৮০, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৭৫০, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। লুজ সয়াবিন তেল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, ভালোমানের পামঅয়েল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বড় দানার মসুরের ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ছোট দানার মসুরের ডাল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

 

"

সর্বাধিক পঠিত