করোনাঝুঁকিতে উত্তরাঞ্চলের লক্ষাধিক তামাক শ্রমিক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

এস এইচ এ তরিকুল, বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

করোনার ভয়াবহতায় দেশের প্রধান শিল্প কারখানা বন্ধ করা হলেও এখনো চালু রাখা হয়েছে উত্তরাঞ্চলের বেশকিছু বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ অনেক তামাক কারখানা। বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধের সুযোগ নিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে অন্যান্য সময়ের চেয়ে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে এসব তামাক কারখানায়। নিরুপায় শ্রমিক ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের সংখ্যা লক্ষাধিক।

এদিকে করোনার বিস্তার রোধে উত্তরাঞ্চলের তামাক কারখানাগুলোসহ দেশের সব তামাক কারখানা ও কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’। গত শুক্রবার সংস্থাটির তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মিডিয়া ম্যানেজার আমজাদ হোসেন শিমুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলায় দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ‘সংক্রমণ রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন (২০১৮) ৬১-এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে’ সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। অথচ উত্তরাঞ্চলের রংপুরের হারাগাছে ছোট-বড় প্রায় ৩০টি বিড়ি কারখানা চালু রয়েছে। এসব ফ্যাক্টরিতে অন্যান্য সময় প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তবে সুযোগসন্ধানী তামাক কোম্পানির মালিকরা বর্তমানে সে সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় লক্ষাধিকের কোটায় গেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এসব অসহায় শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্ব না মেনে কাজ করায় মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে আকিজ বিড়ি কারখানার প্রায় ১ হাজার শ্রমিককে মাইকিং করে জোরপূর্বক কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ঈশ্বরদী শহরের গোকুল নগরে অবস্থিত আকিজ বিড়ির কারখানার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটেও আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ কয়েকটি তামাক কারখানা এখনো চালু রয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানেও হাজার হাজার শ্রমিক করোনাঝুঁকির মধ্যে কাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণার উদ্বৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে এসিডি জানান, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ গুণ বেশি। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধূমপায়ীদের ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে তামাকের উৎপাদন, বিপণন ও বিতরণ ব্যবস্থা চালু রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এসিডি। অনতিবিলম্বে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের সব তামাক কারখানা ও তামাকের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

"