তাবলিগ জামাতের ৪২৯১ জনের করোনা রোহিঙ্গাদেরও

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

তবলিগ জামাতের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন ৪২৯১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে বলে জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রক। আর তারপরই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে এবার বিভিন্ন রাজ্যকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মার্চ মাসে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের আয়োজিত ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই, তাই এদের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাই রাজ্যগুলো বলেছে, প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে খতিয়ে দেখুক তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোতে এই মর্মে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের শিবিরগুলোতে গিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের স্ক্রিন করা উচিত এবং তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা দরকার। কেননা এই খবর পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গা মুসলিমরা তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন ধর্মীয় জমায়েতে অংশ নিয়েছে। সেই কারণেই তাদের মধ্যে অনেকেরই করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হোক, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রধান ও মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই চিঠিতে হায়দরাবাদ, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, পাঞ্জাব, জম্মু ও মেওয়াতের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, হায়দরাবাদের শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা মেওয়াতের ইজতেমায়া যোগ দিয়েছিল এবং তারপর তারা নিজামউদ্দিনের মার্কাজেও গিয়েছিল। এছাড়াও শ্রম বিহারে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা, শাহীনবাগেও তাবলিগ জামাতে যোগ দেয়। তারপর তারা অনেকেই আর নিজেদের শিবিরে ফিরে আসেনি।

এদিকে জম্মুতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তবলিগি জামাতের সম্পর্ক সামনে আসার পরই তৎপর হয়ে উঠেছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। যেসব এলাকায় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা থাকেন সেসব এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা। জম্মুর ভাতিন্দি ও সুনজাওয়ান এলাকায় থাকেন কমপক্ষে ২ লাখ মানুষ। রোহিঙ্গারা থাকায় ওই দুই এলাকাকে হটস্পট বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। দুটি এলাকাকেই সিল কওে দেওয়া হয়েছে। কাউকে বাইওে বের হতে বা এলাকায় ঢুকে দেওয়া হচ্ছে না। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানে হচ্ছে গোটা জম্মু জেলায়। কয়েক দিন আগে এলাকার একটি মসজিদ থেকে ১০ রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর তাদেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। পুলিশের দাবি, ওই ১০ জনের মধ্যে ২ জন হায়দরাবাদ থেকে এসেছেন। ওই দশজনের পর ভাতিন্দার ফিরদোসাবাদ এলাকা থেকে ২২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে ৯ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্র খবর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসাবস করেন রোহিঙ্গারা। হায়দরাবাদেও রয়েছে অনেকে। এদের মধ্যে অনেকেই হরিয়ানার মেয়াতে জামাতে গিয়েছিলেন। তারপর সেখান থেকে দিল্লির নিজামুদ্দিন গিয়েছিলেন। সেখান থেকে জম্মু ফিরে এসেছিলেন।

 

"