যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলে ক্যারেজ পুনর্বাসন হচ্ছে

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাত্রীসেবার মান বাড়ানো ও যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে রেলের ১০০টি ক্যারেজ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী গাড়ির মেরামত ব্যাকলগ ও গাড়ির প্রাপ্যতা বাড়বে। বাড়বে যাত্রীসেবার মান এবং রেলওয়ের রাজস্ব।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২৮ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

কমিশন সূত্র বলছে, করোনা সংকট পরবর্তী একনেকের কোনো একটি সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) শামীমা নার্গিস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনে যাত্রীবাহী কোচের প্রাপ্যতা বাড়বে। ফলে এখনকার চেয়ে আরো বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে ৯০৭টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ/ক্যারেজ এবং প্রায় ২ হাজার ৫৩০টি ওয়াগন আছে। এই ক্যারেজ ও ওয়াগনগুলোর কোনো ধরনের মেরামতসহ যেকোনো কাজের জন্য একমাত্র স্থাপনা হলো পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগান কারখানা। এই কারখানায় ২ হাজার ১২৬ জনবল মঞ্জুরির বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক।

আবার ক্যারেজ ও ওয়াগনগুলোর প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, যেগুলো আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এসব ক্যারেজকে কাজের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। কিন্তু পাহাড়তলী কারখানায় জনবলের স্বল্পতা ও বাড়তি অর্থের সংস্থান না থাকার কারণে বেশি মেরামত প্রয়োজন হওয়া গাড়িগুলোর কাজ পড়ে থাকে। এতে করে ভারী গাড়িগুলোর কাজ জমে ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, রেলপথে যাত্রীর চাপ মোকাবিলা করতে মেরামত না করতে পারা প্রায় ৪০০ ভারী মিটারগেজ ক্যারেজ বা কোচ চলাচল করছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেও। যাত্রী চাহিদার কারণে ওভারডিউ এসব কোচ রেলবহর থেকে বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলমান থাকায় এর আগেও দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি ক্যারেজ প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আরো ১০০ ক্যারেজ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, ১০০টি জিওএইচ ওভারডিউ গাড়ি প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই প্রকল্পটির প্রথম পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গত বছরের শেষ পিইসি সভার সুপারিশ অনুযায়ী ব্যয় কাটছাঁট করে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

"