সুস্থ রাখবে খাদ্যাভ্যাস জীবনযাপন

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং কোন উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে সেটা নিয়ে নানামুখী গবেষণা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। পুষ্টিবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা বলছেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে অল্পতে অসুস্থ মানুষ খুবই সহজে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং রোগের আক্রমণও জোরালো হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ সচরাচর যে ধরনের খাবারগুলো খাচ্ছে তা হলো শর্করা, প্রোটিন এবং ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার। যেহেতু এই সময়টাতে ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, নেই চলাচল করার মতো কোনো জায়গা যা কিনা আপনার ক্যালোরি খরচ করবে। তাই বেছে নিতে হবে ক্যালরিযুক্ত খাবার কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে সে ধরনের খাদ্য।

মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতানির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ওপর। দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারগুলো, পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়োটিক হিসেবে পরিচিত, এই সময় দুধ খাওয়া বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। ভিটামিন ডি-এর জন্য দিনের কিছুটা সময় রোদ লাগাতে হবে এটা খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার শরীর গঠন ভালো এবং যেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না তার প্রতিরোধ ক্ষমতা ততই বেশি। ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার খেতে হবে। এই ভিটামিনগুলো পানির সঙ্গে মিশে যায় এরা শরীরের জমা থাকে না প্রতিদিনই এই ভিটামিনগুলো গ্রহণ করতে হবে এই ভিটামিনগুলো পানিতে মিশে যাওয়ায় প্রস্রাবের সঙ্গে অথবা ঘামের সঙ্গে আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। শরীরের নার্ভের কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এই দুটি ভিটামিন শরীরের বিপাকীয় কারণে যেসব সেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভিটামিন সি সেগুলোকে সারিয়ে তোলে। ভিটামিন সি পাবেন ফল ও সবুজ শাকসবজির মধ্যে।

অতিরিক্ত চা-কফি পান করা শরীরের জন্য কখনোই ভালো নয় এর কোন কোন উপাদান শরীরের জন্য ভালো আবার খারাপ রয়েছে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন আপনার লো-প্রেসার তৈরি করতে পারে। তাই পরিমিত চা-কফি খেতে পারেন। ভাত বা শর্করা-জাতীয় খাবার বেশি খাবেন না। শর্করা দেহে ফ্যাট বা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রম জড়িত, একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কারণ প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলাচলের কারণে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। শরীরের সব স্থানে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ায় অক্সিজেন সব জায়গায় পৌঁছায় এবং কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন করে থাকে। তাই সামান্য হলেও ব্যায়াম করুন। পরিমিত খাদ্য ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন আপনাকে রাখবে ফিট।

 

"