কনটেইনারবাহী ট্রেন শূন্যের কোটায়

কার্গো ভিলেজে পণ্যের স্তূপ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে সীমিত পরিসরে চলছে কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোর কার্যক্রম। শুধু খাদ্য, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল খালাস হলেও স্থানীয় শিল্পের জন্য আমদানি করা পণ্যের শুল্কায়ন হচ্ছে কম। এতে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে পণ্যের স্তূপ জমে গেছে। আর খালাস করতে না পারলেও গুদাম ভাড়ার জন্য জরিমানা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারককে। এমন অবস্থায় গুদাম ভাড়া মওকুফ চেয়েছেন তারা। এদিকে, কমলাপুরের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) কনটেইনারের স্থান সংকুলান না হওয়ায় কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারছে না। গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে কোনো কনটেইনারবাহী ট্রেন কমলাপুরে আসেনি। এ অবস্থায় শূন্যের কোটায় নেমেছে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচলে।

গতকাল বৃহস্পতিবার কামলাপুর রেলস্টেশনে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলেও কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল। যেখানে প্রতিদিন চারটি করে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করত। সেখানে এখন কোনো দিন একটি আসছে, আবার কোনো দিন একটিও আসছে না। কারণ কনটেইনারে যাদের পণ্য আসছে তারা যথা সময়ে না নেওয়ার ফলে। ডিপোতে কনটেইনারগুলো পড়ে থাকছে এবং এতে করে কনটেইনারের জট তৈরি হচ্ছে। ফলে নতুন করে কনটেইনারবাহী ট্রেন আসছে না এবং যেতেও পারছে না।

স্টেশন ম্যানেজার আরো জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের কনটেইনারবাহী ট্রেন পরিচালনা করার সক্ষমতা রয়েছে। ডিপোতে জায়গা না থাকার ফলে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব ট্রেন বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

পরে ২৬ মার্চ থেকে সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখে সব কাস্টম হাউস। ৩০ মার্চ পর্যন্ত শুধু আমদানি করা জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর শুল্কায়ন করা হয়। এরপর বিজিএমইএর অনুরোধে শিল্পের কাঁচামাল খালাসের সিদ্ধান্ত হলেও সাধারণ ছুটিতে জনবল কম থাকায় স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের শুল্কায়ন হচ্ছে নাম মাত্র। এ অবস্থায় পণ্য খালাস সম্ভব না হওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিক ও আমদানিকারকরা।

এদিকে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ কার্গো জমে গেছে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এতে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেন, এখন আর কোনো স্পেসই খালি নেই। গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে। এগুলো পরে ডেলিভারির সময় ঝামেলা হবে এবং বিলম্ব হবে।

জরুরি পণ্য দ্রুত খালাসে আরো জনবল নিয়োগের অনুরোধ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের। যদিও অগ্রাধিকার বিবেচনায় দ্রুত শুল্কায়ন করা হচ্ছে বলে দাবি ঢাকা কাস্টম হাউসের।

ঢাকা কাস্টমসের উপপরিচালক মারুফুর রহমান খান বলেন, জরুরি যে পণ্যগুলো সেগুলোই খালাসের চেষ্টা করছি আমরা। তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটারিয়ালের কথা বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা দেখছি প্রতিষ্ঠানটি ম্যানুফ্যাকচারার কিনা এবং সেটার ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি আছে কিনা।

স্বাভাবিক সময়ে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে দৈনিক গড়ে ৮ শতাধিক পণ্যের চালান খালাস হলেও বর্তমানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি চালান খালাস হচ্ছে।

 

"