ড্রেন সংস্কার

জলাবদ্ধ ঢাকায় এবার স্বস্তিÍ!

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামান্য বৃষ্টিতেই একসময় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিত রাজধানীর শান্তিনগর ও নাজিম উদ্দিন রোডে। এ দুটি স্থানে এখন মুষলধারে বৃষ্টি হলেও পানি জমবে না। কারণ পরিকল্পিতভাবে স্থান দুটির জলাবদ্ধতা নিরসন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সচিবালয় ও বঙ্গভবনের পাশেও জলাবদ্ধতা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকৌশলীরা জানান, গোপীবাগে ঢাকা ওয়াসার তিনটি পাম্প রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ১৮ হাজার কিউবিক মিটার। সচিবালয়, গুলিস্তান ও বঙ্গভবনসহ আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও এসব পাম্প দিয়ে যে পরিমাণ পানি অপসারণ করা যায় তাতে জলজট হবে না। তবে এর বেশি বৃষ্টি হলে জলজট হবে। এজন্য ঢাকা ওয়াসার পাম্পের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সামান্য বৃষ্টি হলেই বঙ্গভবন ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অতি গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি স্থানের জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে ২০১৮ সালের শুরুতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এই সংস্থার প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, গণভবনের চারদিকের রাস্তা নিচু রাখা, এর এক্সপ্রেস ড্রেনেজ লাইনের সঙ্গে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ওয়াসার গোপীবাগ পাম্পিং স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কমলাপুর রেলওয়ে কালভার্টের তলদেশ সেগুনবাগিচা কালভার্টের তলদেশের সমান নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সচিবালয়ের ক্ষেত্রে এই স্থানের পানি ওসমানী উদ্যানের পুকুরে ফেলা, বৃষ্টির সময় পানি ধারণের জন্য সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে জলাধার নির্মাণ করা, পানি নিষ্কাশনের জন্য চারপাশে গভীর ড্রেন নির্মাণ করা এবং পর্যাপ্ত পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। সচিবালয় থেকে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পর্যন্ত নির্মিত এক্সপ্রেস লাইনের সঙ্গে ডিএসসিসির সব ড্রেনেজ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এতে আর জলাবদ্ধতা হবে না।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, বঙ্গভবন ও সচিবালয় এলাকার পানি কমলাপুর রেলওয়ে কালভার্ট ও গোপীবাগ পাম্পিং স্টেশন হয়ে নিষ্কাশন হচ্ছে। কিন্তু এই স্টেশনের সক্ষমতা কম। ফলে বেশি বৃষ্টি হলে সচিবালয়, বঙ্গভবন ও মতিঝিলসহ আশপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া গোপীবাগ রোড ক্রসিং কালভার্টের তলদেশ অপেক্ষাকৃত উঁচু। তাই এই কালভার্ট দিয়ে যথাযথভাবে পানি অপসারণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় এই রোড ক্রসিংয়ের লেভেল সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্টের সমতলে নামিয়ে দেওয়ার জন্য রেলওয়েকে বলা হয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, বঙ্গভবনের দক্ষিণ পাশের রাস্তা অনেক উঁচু ছিল। ফলে রাস্তার পানি বঙ্গভবনের ভেতরে চলে যেত। এ কারণে রাস্তাটি ৬ ইঞ্চি নিচু রেখে সড়কের দক্ষিণ দিকে ঢালু করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সড়কের পানি এখন বঙ্গভবনে ঢোকে না। পাশাপাশি বঙ্গভবনের পানি সড়কের ওপর দিয়ে বের হওয়ার পথ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবনের চারদিকের সব রাস্তাও নিচু করে দেওয়া হয়েছে।

মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, শান্তিনগর ও নাজিম উদ্দিন রোড ছিল দক্ষিণ সিটির বোঝা। এই এলাকায় বৃষ্টি হওয়া মানেই কোমর পানি। কিন্তু আমরা ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করেছি। এবার এই এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।

 

 

"