আজ ভাষণে লকডাউন বাড়ানোর কথা জানাবেন মোদি

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

২১ দিনের লকডাউনের মেয়াদ শেষের দিন আজ মঙ্গলবারই ফের ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সকাল ১০টায় সেই ভাষণেই সারা দেশে লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো কনফারেন্সের পর এরই মধ্যে কয়েকটি রাজ্য নিজেদের মতো লকডাউন বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিও জানিয়েছিলেন, অধিকাংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই লকডাউন বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। তার সেই বক্তব্যেই কার্যত লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত ছিল। আজকের ভাষণেই সেই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী করতে পারেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এরসঙ্গেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বেশকিছু নীতিও ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব ও ওড়িশা এরই মধ্যে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ওই তিন রাজ্যে মৃতের সংখ্যাও বেড়েছে। জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কথা মাথায় রেখে গোটা দেশেকে তিনটি জোনে ভাগ করতে চাইছে সরকার। যেখানে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত সেটিকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এলাকাটিকে কার্যত সিল করে দেওয়া হবে। যেখানে করোনা রোগী দেখা গেছে অথচ রোগী বাড়ছে না সেটিকে অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং যেখানে করোনা রোগীর দেখা মেলেনি সেটিকে গ্রিনজোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। খবরে জানা গেছে, শিল্প, নির্মাণ কাজ এবং কৃষিক্ষেত্রগুলোতে পর্যাক্রমে কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এদিকে সন্তান জন্মের পরই করোনায় আক্রান্ত মা, আর তারপরই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইডেন বিল্ডিং। উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণের জেরে এর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের আরো দুটি হাসপাতাল, হাওড়া জেলা হাসপাতাল ও চিনারপার্ক সংলগ্ন বেসরকারি চার্নক হাসপাতাল। এবার বিপর্যয়ের মুখে কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইডেন বিল্ডিং। জানা গেছে, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হন এক প্রসূতি। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই জ্বর আসে ওই প্রসূতির। সঙ্গে সঙ্গেই তার লালারস পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে ওই প্রসূতির শরীরে করোনার জীবাণু মেলে। এরপরই কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রসূতি রোগ বিভাগের ইডেন বিল্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই বিল্ডিংয়ে ঢোকা বেরোনোর যাবতীয় পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং লকডাউনে সবাইকে ঘরে রাখতে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। এবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লকডাউন না ভাঙার বার্তা পৌঁছে দিতে নজরকাড়া মিম ব্যবহার করেছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এই নতুন মিম প্রশংসার পাচ্ছে নেটিজেনদের। লকডাউনের প্রথম দিন থেকে নরমে গরমে শহরবাসীকে ঘরেই আটকে রাখার চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশ। কখনো চোখরাঙানি, কখনো গান গেয়ে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা। এবার সেই একই কাজে কলকাতা পুলিশের হাতিয়ার মিম। উত্তর কুমার অভিনীত দেওয়া নেওয়া ছবির সংলাপ ব্যবহার করে মিমটি তৈরি করা হয়েছে। উত্তম কুমার ও কমল মিত্রের মুখে কয়েকটি নির্দিষ্ট সংলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম হিসেবে বহুল প্রচলিত। সেই সংলাপকেই একটু অদল বদল করে লকডাউনে বাইরে বেরোলে কী সমস্যা হতে পারে, তা বোঝানোর চেষ্টা করেছে কলকাতা পুলিশ।

এর মধ্যেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চালু হোক কয়েকটি সেক্টর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে এমনই প্রস্তাব রেখেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক। তা না হলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গাড়ি উৎ?পাদন, বস্ত্র, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক এবং আরো কয়েকটি ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর। যথেষ্ট পরিমাণে সেফগার্ডসহ অল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে এই ক্ষেত্রগুলোকে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো খুলে দেওয়া হলে অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হবে এবং সাধারণ মানুষের হাতে টাকা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলোকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাতে বিশেষ আদেশ বা অধ্যাদেশ আনতে যাচ্ছে সরকার। মন্ত্রিসভার পরের বৈঠকেই এই অধ্যাদেশ সম্মতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেউলিয়া আইন, ২০১৬-তে একটি নতুন ধারা যোগ করা হবে। ফলে আগামী ছয় মাস দেউলিয়া কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই সময়সীমা করোনার সংক্রমণের চিত্র কোন দিকে যায়, সেই পরিস্থিতি অনুসারে বাড়ানোও হতে পারে। তবে যেসব সংস্থা এরই মধ্যে দেউলিয়া পরিস্থিতিতে পড়েছে, তারা এই নতুন নিয়মের সুবিধা পাবে না। নিঃসন্দেহে এই নতুন নিয়মের ফলে যেসব সংস্থা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে করোনা অতিমারির সময়ে, তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, যদি দেশজুড়ে চলতে থাকা লকডাউনের সময়সীমা ৩০ এপ্রিলের পরেও বাড়ে, তাহলে সরকার দেউলিয়ার ধারাগুলোকে স্থগিত রাখবে ছয় মাসের জন্য। ফলে সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ঋণদাতা ও প্রমোটাররা দেউলিয়া সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ করতে পারবে না।

 

"