ভারতে করোনা সংক্রমণ রোধে ৩ রঙে চিহ্নিত

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

লাল, কমলা, সবুজ তিনটি রং দেশের সংক্রমিত আর সংক্রমণমুক্ত এলাকা চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। জীবিকা বাঁচানোর প্রয়াসে দেশকে এই তিন রঙে ভাগ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোনো কোনো এলাকায় মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত থাকবে না, তা স্থির করবে সবুজ রং। এলাকায় মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হবে, তা স্থির করবে কমলা রং। আর আঁতুড়ঘর অর্থাৎ লকডাউন জারি থাকার সম্ভাবনা কোথায়, তা লাল রং চিহ্নিত করবে। জানা গেছে, দেশের ৪০০ জেলা করোনা সংক্রমিত।

সেই জেলা হয় লাল কিংবা কমলা জোনে পড়বে। আর একদম সংক্রমণমুক্ত জেলাকে রাঙানো হবে সবুজ রঙে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যে এলাকায় ১৫ জনের কম সংক্রমিত আর এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সংক্রমণের খবর নেই, সেই এলাকা কমলা জোন। এই জোনে গণপরিবহন, দোকান-বাজার, চাষাবাদ, অফিস-কাছারি খুলতে অনুমতি দেবে প্রশাসন। তবে সেই কর্মকা- চলবে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায়। যে এলাকায় ১৫ জনের বেশি সংক্রমিত আর দুদিন অন্তর নতুন সংক্রমণ, সেই এলাকা রেড জোন। লকডাউন কার্যকর থাকবে সেই রেড জোনে।

এদিকে গতকাল রোববার ভারতে করোনাভাইরাসের বলি হয়েছেন আরো ৩৪ জন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭৩। রোববার বিকেলে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আরো জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত ৯০৯ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আরো আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ২৫৬। জানা গেছে, ৬০১টি করোনা চিকিৎ??সার হাসপাতালের মধ্যে বেড রয়েছে এক লাখের বেশি। করোনা রোগীদের জন্য ২০ হাজার রেলকামরাকে আইসোলেশন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এদিকে এখনো পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে পজিটিভ এসেছে ৭ হাজার ৯৫৩-এর। গত পাঁচ দিনে রোজ গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৪৭ জনের সোয়াব টেস্ট করা হয়েছে। রোজ গড়ে করোনা ধরা পড়েছে ৫৮৪ জনের শরীরে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপে ভারতীয় অর্থন?ীতি বিরাট সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানাল বিশ্বব্যাংক। আগে থেকেই যে সংকটগুলো ছিল, সেগুলো আরো ব্যাপক চেহারায় দেখা দিচ্ছে বলে জানাচ্ছে তারা। করোনার প্রকোপে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় কী প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর সে সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক আন্দাজ করছে ভারতের অর্থনৈতিক গতি ৫ শতাংশ হ্রাস পাবে ২০২০-তে এবং ২০২১ অর্থবর্ষে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি হ্রাসের আশঙ্কাও করেছে তারা। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি এমনিতেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের আর্থিক সংকটের কারণে বিপন্ন অবস্থায় ছিল। এবার করোনার প্রকোপে সেই সংকট আরো ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রুখতে ২১ দিনের লকডাউন চলছে দেশে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ও মানুষের চলাফেরা রুদ্ধ হয়েছে। এরই ধাক্কায় ঘরোয়া চাহিদা ও সরবরাহ ব্যাহাত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক কনফারেন্সে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার জানিয়েছেন, ভারতের পরিস্থিতি ভালো নয়।

 

"