করোনা

যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনেই ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে এক দিনেই ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কেই মারা গেছে ১০ জন। দেশটিতে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু। এ নিয়ে করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১২২ জন বাংলাদেশি মারা গেলেন।

জানা গেছে, গত শনিবার নিউইয়র্ক শহরেই করোনায় দুই নারীসহ সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তারা হলেন পুলিশের ক্যাপ্টেন খন্দকার আবদুল্লাহর বাবা খন্দকার সাদেক, নিউইয়র্ক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জয়দেব সরকার (৫৫), শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা খন্দকার মোসাদ্দেক আলী, আসাদুজ্জামান লালা, দেওয়ান আফজাল চৌধুরী, গৃহবধূ শারমীন আহমেদ চৌধুরী নীলা (৫২), ষাটোর্ধ্ব আজিজুন্নেসা। এছাড়া নিউইয়র্কের আপস্টেট বাফেলো সিটিতে মারা গেছেন আরো দুজন। তারা হলেন মোহাম্মদ জাকির (৩৮) ও সামসুস জহির (৪০)। অপরদিকে নিউইয়র্ক সিটির পাশের শহর লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা সিলেটের একটি চা বাগানের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার এ জামান (৭০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। একই দিন নিউইয়র্কের বাইরে মেরিল্যান্ডে প্রথম করোনায় মারা যান এক বাংলাদেশি চিকিৎসক। তার নাম ডা. আবদুল মান্নান (৮০)।

এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের নতুন বসতি আপস্টেটের বাফেলো সিটিতে করোনা আক্রান্ত দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন স্থানীয় মসজিদে তাবলিগ জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে এসে আক্রান্ত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৪ জন, যেখানে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৬৮ জন।

প্রথমে করোনাভাইরাসকে পাত্তা না দিলেও এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গেছে সবাইকেই। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে নিউইয়র্কে ৮ হাজার ৬২৭ জন। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। এরপরই আছে নিউজার্সি, সেখানে আক্রান্ত ৫৮ হাজার ১৫১ জন ও মারা গেছেন ২ হাজার ১৮৩ জন। নিউইয়র্ক মহানগরীতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তা-বে এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে এমন এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে যে, নিরুপায় হয়ে লাশগুলোকে গণকবর দিতে হচ্ছে।

 

"