ঝুঁকি নিয়েই টিসিবি পণ্য কিনছে মানুষ

করোনা বিস্তারের শঙ্কা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

একবেলা কাজ না করলে যাদের চুলায় আগুন জলে না, নিম্নআয়ের মানুষের কাছে তাই বড় কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগের ভয়াবহতার সতর্ক বাক্যÑ সবই অর্থহীন। সামাজিক দূরত্ব কিংবা সতর্কতা মেনে চলছেন না কেনÑ এমন প্রশ্ন করতেই মিরপুরের কালসীতে থাকা এক নারী লাকীর সোজাসাপ্টা জবাব ঘর থেকে বের না হলে সংসার চলবে ক্যামনে। পল্লবীর বাসিন্দা রিকশাচালক দুলাল পূরবীতে কম দামের নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে ভুলে গেছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে পণ্য কেনার কথা। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক থেকে পণ্য কিনছে রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষ।

বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শরীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা মানছেন না তারা। গত শুক্রবার, শনিবার ও গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুরের চিত্র ছিল এটা। মিরপুর পূরবীতে গতকাল ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে সরেজমিন নিম্নআয়ের মানুষের ঠাসাঠাসি করে এসব নিত্যপণ্য কিনতে দেখা যায়। সবাই তাড়া দ্রুত কমদামের এসব জিনিস কিনে বাড়িতে ফেরা।

একই চিত্র রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকাতেও। সাদেক খান রোড়ের মাথায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইন ও ঠেলাঠেলি করেই সাধারণ মানুষকে পণ্য কিনতে দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত গরিবদের মূল ভরসা টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র। আর রায়েরবাজার ও মিরপুর এলাকায় নিম্নআয়ের মানুষের বেশি হওয়ায় টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র ট্রাকের পেছনে ভিড় একটু বেশি থাকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পণ্য ক্রয়ের জন্য শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অধিকাংশই মানছেন না। পণ্য বিক্রেতারা বার বার অনুরোধ করলেও ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করেই পণ্য ক্রয় করতে দেখা যায়।

সাদেক খান রোডের ট্রাক থেকে সয়াবিন তেল ও ডাল কিনে ফিরছেন রিকশাচালক সোহাগ মিয়া। তিনি জানালেন, এখন

আয় কমে যাওয়ায় এই ট্রাক থেকে জিনিস কিনলে একটু সাশ্রয় হয়। তবে ভিড় বেশি হওয়ায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য কেনা যায় না। আর দীর্ঘ সময় ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকলে আয় আরো কমবে বলে তাকে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

শ্যামলীর টিসিবির বিক্রেতা মো. মাসুদ বলেন, সবাইকে বারবার বলা হলেও কেউ নির্দেশনা মানতে রাজি নন। এমনকি অনেকে লাইনে দাঁড়াতেও চান না। সবাই আগে কিনতে চান। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি স্পটে আটা, চিনি, তেল ও ডাল বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ক্রেতা কম। আবার কোথাওবা টিসিবির ট্রাকের পণ্য কিনতে গ্রাহকরা লাইন ধরছে। টিসিবির ট্রাকের পেছনে নানা বয়সি নারী, পুরুষ ও শিশুকে পণ্য কিনতে দেখা যায়। গত কয়েক দিন প্রখর রোদের পর গতকাল তাপমাত্রা কম থাকায় স্বস্তিতে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো নিম্নআয়ের মানুষ টিসিবির পণ্য কিনেছেন। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় করোনার ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে এ পর্যায়ের মানুষ থেকে। কারণ দেশের অন্যান্য জেলার থেকে রাজধানী ঢাকায় মরণঘাতি করোনার ঝুঁকি বেশি। আর রাজধানীর মধ্যে বাসাবোর পর মিরপুরে লকডাউন এ আছে। গত ১ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে সাড়ে ৩০০ ডিলারের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। এর মধ্যে রাজধানীতে ৫০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

"