যশোরের শার্শা

আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের আম বাগানগুলোয় মুকুল বেশি আসায় এ বছর উৎপাদনের রেকর্ড গড়ার আশা করছেন চাষিরা। মুকুল রক্ষায় এখন গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সবাই। তবে করোনার বিস্তার কাটিয়ে ওঠতে পারলে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তারা।

শার্শা উপজেলায় ১ হাজারেরও বেশি আমচাষি অন্তত ৩ হাজার বিঘা জমিতে এবার আমচাষ করেছেন বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। হিমসাগর, লেংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, রুপালী ও মল্লিকা জাতের ২৭৫টি আমের বাগান শার্শা উপজেলায় আছে বলে জানান কৃষিবিদ সৌতম।

সৌতম বলেন, মুকুল ধরে রাখা, গুটি আনা, গুটি ঝরা বন্ধ করা ও গুটিকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় আমচাষিরা বিরামহীনভাবে পরিচর্যা করছেন। আমের কারবার নিয়ে এই অঞ্চলের ২০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। আমচাষি শার্শার ইস্রাফিল হোসেন মন্টু জানান, এখনই মুকুল রক্ষা করার সময়। পোকা ও ছত্রাকের হাত থেকে বাগান রক্ষা করতে না পারলে আমাদের পথে বসতে হবে। সাবধানতা অবলম্বন করেই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু করোনা পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় তা নিয়ে আম বাজারজাতকরণে দুশ্চিন্তায় আছেন বলে জানান তিনি। সামটা গ্রামের জহুরুল হক জলুর রয়েছে ২৫ বিঘার নিজস্ব আম বাগান। নিজেই জন-মজুরি দিয়ে পরিচর্যা করেন বাগানগুলো। জলু বলেন, প্রতি বছর আমের মুকুল দেখে লাভের আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু নানা কারণে মুকুল ঝরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তেমন একটা লাভ হয় না তার। এ বছর নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেছেন। বিশেষ করে ‘হপার’ পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে মুকুলকে রক্ষা করতে কয়েক দফা তরল কীটনাশক স্প্রে করিয়েছেন তিনি। একই কথা বলেন বড়বাড়িয়া গ্রামে বাগান মালিক শাহাজান আলি।

গোলাম আজম, সামটার শাহাজান আলি, বারিপোতার দেলোয়ার হোসেন, বড়বাড়িয়ার শাজাহান আলি, নাভারনের রবিউল ইসলামসহ একাধিক আমচাষি ও ব্যবসায়ী বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও তারা প্রতিটি বাগান মালিককে অগ্রিম ৩০-৪৫ হাজার টাকা দিয়ে এক বিঘার একটি করে বাগান কিনেছেন। পরিচর্যায় বিঘা প্রতি আরো ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এক বিঘার একটি বাগান থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লাভ হবে। বিঘা প্রতি ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আম বিক্রি করা সম্ভব বলেও মনে করছেন এই আমচাষিরা।

২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৫০ বিঘার ২৫টি আমবাগান লিজ নিয়ে বছর শেষে সাড়ে ৭-৮ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন জামতলার আমচাষি গোলাম আজম। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বাজার কোন অবস্থায় যায় তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর এই অঞ্চলের গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষা করা গেলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

"