কোয়ারেন্টাইনে নিতে সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ৫

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পিরোজপুর প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ট্রলারে আসা লোকজনকে পিরোজপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে নিতে গিয়ে সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে স্বরূপকাঠী উপজেলার কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামনে এ ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান স্বরূপকাঠী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালকুদার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হচ্ছিল। আহতরা হলেন এশিয়া টিভির সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, স্বরূপকাঠী থানার এসআই তাজেল, এসআই আল মামুন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুমন ও বলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মাসুম বিল্লাহ। স্বরূপকাঠী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালকুদার জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে একটি ভাড়া করা ট্রলারে করে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু লোক বলদিয়া ইউনিয়নে আসে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিন মিয়া প্রশাসনকে জানান। স্বরূপকাঠী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আবদুল্লা আল মামুন বাবু ওই লোকদের কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, নির্দেশ পেয়ে বিকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ১৮ জনকে ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে নিয়ে যায় ইউপি চেয়ারম্যান। এ সময় এলাকার কয়েকশ মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

হামলায় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, পুলিশ সদস্য তাজেল, আল মামুন, ইউপি সদস্য মো. সুমন ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মাসুম বিল্লাহ আহত হন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় এশিয়ান টিভির সাংবাদিক গোলাম মোস্তাফার ওপর খেপে গিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় হামলাকারীরা বলে জানান তিনি। বর্তমান সময় বাইরে থেকে লোক আসায় মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করে বলেই তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার চেষ্টা করছি কিন্তু কিছু না বুঝেই কাটাপিটানিয়া গ্রামের মানুষকে চটিয়ে দিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, বাইরে থেকে আসা মানুষদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা নিয়ে ঘটনায় দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। হামলার বিষয়ের চেয়ে বাইর থেকে আসা মানুষগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় খাবারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

"