চমেকে বসছে করোনা পরীক্ষার ল্যাব

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) ল্যাব চালু হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ল্যাবটি চালু করতে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দু-এক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রামে মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম এসে পৌঁছাবে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

চমেক সূত্র জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ল্যাব রয়েছে। যদিও সেটি চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থিত নয়, যা নগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য নতুন করে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আগ থেকেই তাই নগরীর মধ্যে নতুন করে ল্যাবটি স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে নির্দেশনা পায় চমেক কর্তৃপক্ষ। যার জন্য গত ২৫ মার্চ কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে এটি স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে ল্যাবটি স্থাপনে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পাশে তিনটি ক্লাস রুম প্রস্তুত করা হয়েছে।

সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে জনগণ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তারা সেখানে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয় প্রতিদিন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, চমেক হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হচ্ছে। এতে করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনার রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া যাবে। এতে করে নগরবাসী উপকৃত হবেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় এক নেতার সূত্র জানা যায়, চমেক হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার বিএসএল দুই মানের ল্যাব স্থাপন করার জন্য অলরেডি মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। পিসিআর মেশিনটি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে চমেক এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে পিসিআর মেশিনটি পাঠানো হলেও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করা ছাড়া এটি বসানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন চমেক কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শামীম হাসান জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মেশিনটি চট্টগ্রামে আসবে। তবে ল্যাবটি ভেতরে চিকিৎসকদের ও রোগীদের বসার স্থান-নমুনা সংগ্রহের রুম, ওয়াশ রুম, গোসলখানাসহ নানা বিষয় স্থাপন করতে হবে। তারপর মেশিনটি স্থাপন করা হবে। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ না করে এটি বসিয়ে কোনো লাভ হবে না। তাই আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও করা যাবে। এতে করে চমেক হাসপাতালে আসা রোগীদের আর এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে হবে না।

এই দিকে চট্টগ্রামে জেলায় ২৬ জন আইসোলেশনে রয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১৩৬ জন। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে পাঁচজন। শনাক্ত হওয়া পাঁচজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৬ মার্চ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষা শুরু হয়। তবে কয়েক দিন ধরে করোনা সন্দেহভাজন রোগী বাড়ায় নমুনা পরীক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষকে। প্রতিদিন যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, সব পরীক্ষা ওই দিনে করা যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার মোট ৪৪০ জনের পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে পাঁচজন।

 

"