করোনার তথ্য গোপন করছে উত্তর কোরিয়া!

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় নাজেহাল বিশ্ব। প্রতি মুহূর্তে হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। ওয়ার্ল্ডোমিটার ও জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে প্রাদুর্ভাবের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভাইরাসটি সবার আগে সীমান্তবর্তী তাদের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, হংকংয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তো হাতেগোনা দুই থেকে চারটি দেশ ও অঞ্চল ব্যতীত সবখানেই করোনার রাজত্ব। তবে উৎপত্তির শতদিন পেরিয়ে গেলেও উত্তর কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অথচ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকার কথা উত্তর কোরিয়ারই। কেননা দেশটির সঙ্গে চীনের ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার অবিচ্ছিন্ন সীমান্ত রয়েছে এবং দেশটির ৯০ শতাংশ বাণিজ্যই চীনের সঙ্গে।

এরপরও একনায়ক কিম জং উনের দেশে সংক্রমণের কোনো খবর জানা নেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।

এমন অবিশ্বাস্য ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি উত্তর কোরিয়া এতটা ভাগ্যবান নাকি উদ্বিগ্নতা এড়াতে ঘটনা গোপন রেখেছে কিমের সরকার? দেশটির সরকারের আনুষ্ঠানিক বার্তা, এখন পর্যন্ত দেশটিতে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি।

তবে সরকারের এমন বার্তার বিপরীতে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এনআইএস) সাবেক প্রধান নাম সুং উক। তার দাবি, ২ কোটি ৫৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে অবশ্যই কেউ না কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। হয়তো সরকারের সেদিকে খেয়াল নেই বা জেনেও অস্বীকার করছে।

এর পেছনে অধ্যাপক নাম সুং উকের যুক্তি, সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে অসংখ্য মানুষ ট্রাকে বা ট্রেনে করে চীন-উত্তর কোরিয়া সীমান্ত দিয়ে যাওয়া আসা করেছেন। তাই ভাইরাসটি এতদিনে খুব সহজেই উত্তর কোরিয়াতেও পৌঁছে যাওয়ার কথা।

এদিকে চীনের প্রতিবেশী হওয়ায় উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাস প্রবেশ করলে তা মোকাবিলা করতে তারা ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন দেশটির চিকিৎসক চোই জুং হুন। উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৬ ও ২০০৭ সালে হামের প্রকোপ চলছিল উত্তর কোরিয়ায়। এ দুই বছর হাম মোকাবিলায় দিন-রাত কাজ করেছি। আমাদের তখন খুব বেগ পেতে হয়েছিল। কারণ ওই সময় উত্তর কোরিয়ায় টানা ২৪ ঘণ্টা কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন চালানোর মতো ব্যবস্থা ছিল না। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগে এখনো তেমন উন্নতি হয়নি বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

ওই সময়ের কথা স্মরণ করে চোই জুং-হুন আরো বলেন, রোগী শনাক্তের পর আমরা তাদের কোনো হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টাইন স্থাপনায় পাঠাতাম। পরে শুনতাম তারা সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন। কারণ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তেমন কোনো নির্দেশনাই মানত না। হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টাইন স্থাপনায় রোগীদের জন্য যখন পর্যাপ্ত খাবারও পাঠানো হতো না। দেখভালও করা হতো না তেমন। তখন সংক্রমণ নিয়েই রোগীরা পালিয়ে যেতেন। আমার তো মনে হয়, করোনাকালেও এই অবস্থাই চলছে।

 

"