৬৮ কারাগারে ২০ নির্দেশনা

৪০ কারাবন্দি কোয়ারেন্টাইনে!

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেশের সব কটি কারাগারে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কারা অধিদফতর। প্রত্যেক বিভাগের একটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপন করা হয়েছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। প্রত্যেক কারাগারে স্থাপন করা হয়েছে জরুরি ফোন বুথ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আদালতে বন্দি হাজিরা স্থগিত করা হয়েছে। সম্প্রতি কারা অধিদফতর থেকে দেশের ৬৮টি কারাগারে ২০টি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষাসেবা বিভাগের গৃহীত পদক্ষেপের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ বন্দিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতের কারা অধিদফতরের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলা হয়, সর্বশেষ ২৮ মার্চের তথ্য অনুযায়ী দেশের কারাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কোনো পজিটিভ কেস নেই। তবে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে কারো ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে, তাদের পৃথক কক্ষে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪০ বন্দিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দেশের কারাগারগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া গেলে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দিদের জন্য বিভাগভিত্তিক কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, সিলেট, ফেনী ও দিনাজপুর জেলা কারাগারে আইসোলেশন সেন্টার গঠন করা হয়েছে।

করোনার সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে কারাগারে বন্দিদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, বন্দিরা যেন আত্মীয়পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন না হন, সেজন্য জরুরি টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বন্দি ও স্টাফদের বিদেশফেরত আত্মীয়স্বজনকে কারা এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কারা এলাকায় প্রবেশকারী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়েছে। হ্যান্ড ওয়াস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিউটিতে প্রবেশের আগে কর্মরত সবার হাত ও বুট জুতা জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া নিয়মিত দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে, যেন সংক্রমণ সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৃথক করে ফেলা যায়।

 

"