করোনায় জনসচেতনতা বাড়াতে মাঠে নেমেছে গ্রিন ভয়েস

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

মরণঘাতী করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’। এই সংগঠনটি নিজস্ব উদ্যোগে উৎপাদন করছে করোনার ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এগুলো নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করছে। দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার সরবরাহ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে গ্রিন ভয়েস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন আক্রান্ত দেশের সংখ্যা বাড়ছে; বর্তমানে এ তালিকায় রয়েছে ১৯২টি দেশ। পরমাণু শক্তিধর দেশও কারোনার প্রভাবে কাবু।

করোনাকে ইস্যু করে বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিরোধক সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা আদায় করছে। মানুষকে জিম্মি করে জীবানুরোধক হ্যান্ড স্যানিটাইজার পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। আর এই অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে এবং বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিতরণ করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর লালমাটিয়ার ডি-ব্লকের একটি ভবনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনের কাজ করছে গ্রিন ভয়েসের কর্মীরা। বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭০ শতাংশ আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, গ্লিসারিন, লেমন ওয়েল ও ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করে এই স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বোতলজাত করার পাশাপাশি তা বিনামূল্যে (ফ্রি) বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়কারী আলমগীর কবীর বলেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকলেও আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পেশাজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। সেই বিবেচনা থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানুষ গৃহবন্দি হয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষরা সব থেকে বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তাদের মধ্যে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তি অনুদানের এই কার্যক্রম চলছে। তাই এই কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক ছাত্রনেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, এই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বোতল, কেমিক্যালসহ অন্যান্য কাঁচামালের সংকট ও উচ্চমূল্য বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্য অর্থ সংকট তো আছেই। তাই দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তায় সবাই এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জেলায় জেলায় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

"