করোনা মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দিল ৩৩ কোটি টাকা

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ঝঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ বিশেষ বরাদ্দ পেল ৩৩ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এই বরাদ্দ বিশেষ অনুমোদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সচিবালয়ের অফিস কক্ষে গতকাল বুধবার করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মরণ কুমার চক্রবর্ত্তী, অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকার ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভার তথ্য মতে, করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের তিনস্তরে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। এই টাকার অর্ধেক বরাদ্দ পেয়েছে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন। সিটিগুলোর অনুকূলে প্রাপ্ত বরাদ্দের পরিমাণ সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। বরাদ্দপ্রাপ্ত টাকায় সিটি করপোরেশনগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমণ, মশক নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ব্যয় করবে। কারণ, আয়তন, জনসংখ্যা ও ঘনবসতি বিবেচনায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আর দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ স্তরের জনপ্রতিনিধিরা জীবাণুনাশক ও সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয় করে জনগণের নিরাপত্তায় বরাদ্দপ্রাপ্ত তথ্য ব্যয় করবে। এ ছাড়া ৪৯২ উপজেলা পরিষদে বাকি অর্থ পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এই অর্থ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ তাদের কার্যক্রমে সহায়তা নিতে পারবেন।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আটটি, জেলা শহরে পাঁচটি এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে হাত ধোয়ার স্থাপনা নির্মাণ করছে। ইউনিসেফের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সমন্বয় করে প্রতি জেলায় ব্লিচিং পাউডার কেনায় ৫০ হাজার টাকা, নলকূপের খুচরা যন্ত্রাংশে ৩০ হাজার টাকা, সাবান বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং জেলাপ্রতি এসব ক্রয়ে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য প্রতি উপজেলায় নলকূপের খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা, ব্লিচিং পাউডার ক্রয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সাবান ক্রয়ে ৫ হাজার অর্থাৎ উপজেলাপ্রতি ৫৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে হ্যান্ডওয়াশিং বেসিনে ব্যবহারের জন্য সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ক্রয় বাবদ দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছে।

 

"