সরেজমিন প্রতিবেদন

সম্প্রতি আসা বিদেশিরাও মানছেন না কোয়ারেন্টাইন

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রবাসী ও স্থানীয় জনগণ তো কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানছেন না বলে রয়েছে অনেক অভিযোগ। জানা গেছে, বিদেশিরাও ঠিকমতো এটি মানছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১১ মার্চ বাংলাদেশে এসেছেন জাপানের নাগরিক আকিরো সাইতো। ইমিগ্রেশনের তথ্য অনুসারে, তার চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর খুলশী এলাকার ২ নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকার কথা। কিন্তু গত মঙ্গলবার ওই বাসায় গিয়ে তাকে পায়নি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আকিরো সাইতোর বাসায় গিয়ে দেখি তিনি বাসায় নেই। পরে বাসার কেয়ারটেকার এবং স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, জাপান থেকে এসেই আকিরো সাইতো নিয়মিতভাবে নগরীর ইপিজেডে কর্মস্থলে (গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, সেকশন-৭) যাতায়াত করছেন।

তিনি আরো জানান, ওই বাড়িতে আরো কয়েকজন জাপানি নাগরিক বসবাস করছেন। তারাও কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। ওই বাসাতে তাৎক্ষণিকভাবে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নাগরিকের নাম-পরিচয়সহ রেড স্টিকার লাগানো হয়। এছাড়াও জাপানি এ নাগরিকের বিষয়ে নজরদারি করতে খুলশী থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু এই বাসায় নয়, মঙ্গলবার খুলশী এলাকায় থাকা ৮ থেকে ১০ জনের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বাসায় গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

অভিযান পরিচালনাকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে অভিযানে গিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, মার্চে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে আসা ৩০ জনের বেশি নাগরিক খুলশী এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের ৮ থেকে ১০ জনের বাসায় আমরা গিয়ে দেখেছি, তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না।’

তিনি আরো জানান, খুলশীর ২ নম্বর রোডের ১২/২ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ান রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। কোরিয়ান নাগরিক সি জং কিম গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশে এসেছেন। তার ঠিকানা দেওয়া আছে এই রেস্টুরেন্টের। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, তিনিও নেই। কেয়ারটেকার কাছ থেকে জানা যায়, তিনি মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করতে আসেন। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, রেস্টুরেন্টে প্রচুর জাপানি-কোরিয়ান-চাইনিজদের আনাগোনা। তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

"