শিবচরে নিস্তব্ধতার ৬ দিন

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

মাদারীপুর প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম। এত দিন দেশের বাইরের খবর পড়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও এবার নিজেদের ঘরে হানা দিয়েছে মরণঘাতী এই ভাইরাস। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, মাদারীপুর জেলার শিবচর অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শিবচরবাসীর মধ্যে। শিবচরজুড়ে বিরাজ করছে নীরবতা। করোনা প্রতিরোধের জন্য অবরুদ্ধ শিবচরের নিস্তব্ধতার ছয় দিন পার করেছে গতকাল বুধবার। চরম ঝুঁকিতে থাকার কারণে গত বৃহস্পতিবার বিকালে প্রশাসন উপজেলার চারটি এলাকা লকডাউন করে দেয়। পরের দিন শুক্রবার থেকে প্রশাসনের কড়াকড়ি বাড়তে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ-বাহির সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও পুরো উপজেলাতেই বন্ধ রাখা হয় গণপরিবহন এবং হাট-বাজারের দোকানপাট। শুধুমাত্র নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে। জনসমাগম এড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলতে থাকে মাইকিং। উদ্বুদ্ধ এই পরিস্থিতি নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না শিবচরের সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করেই শিবচর যেন এক নিস্তব্ধ নগরী।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চারটি এলাকাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ওই চারটি এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত। যারা সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসেছেন। উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও পৌর এলাকার দুটি ওয়ার্ডের সঙ্গে অন্য স্থানের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষ এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এছাড়াও বিশেষ নজরদারি রয়েছেন প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ।

এদিকে, অবরুদ্ধ চারটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। ওই এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী। গত সোমবার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে ২ দফায় ১৮০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

মো. রুহুল আমিন নামের এক যুবক বলেন, করোনা আতঙ্কেই দিন কাটাতে হচ্ছে। শিবচর যেহেতু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাই আমরাও সচেতনতা অবলম্বন করছি।

এদিকে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মঙ্গলবার বিকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এছাড়া বুধবার বিকাল থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, করোনাভাইরাস ঝুঁকির মধ্যে মাদারীপুর জেলা অন্যতম। এই ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য মঙ্গলবার বিকাল থেকে শহরের সব মার্কেট ও রাস্তা ঘুরে সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের হাট-বাজারের দোকানগুলোও পুলিশ গিয়ে বন্ধ করে দেয়। শুধু ওষুধের দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান, কাঁচাবাজারের দোকান খোলা থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন করোনাভাইরাসের দুর্যোগ চলছে। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনী এসেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমরা যেভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি সে কাজেই সেনাবাহিনী সহায়তা করবে।

 

"