ফেসবুকে বিক্ষোভের ছবি

বাংলাদেশি ছাত্রীকেভারত ছাড়ার নোটিস

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৩৮

কলকাতা প্রতিনিধি

সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়তে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবেশী দেশটিতে সহিংসতা উসকে দেওয়া নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভের কয়েকটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। কুষ্টিয়ার মেয়ে আফসারা আনিকা মিম ২০১৮ সালে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কলাভবনের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইনে পড়তে পশ্চিবঙ্গে আসেন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনবিরোধী ওই বিক্ষোভের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে ওই ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রলের’ শিকার হচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নতুন আইনটির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি নিবন্ধকের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আফসারাকে চিঠি পাঠিয়ে ভারত ছাড়তে বলা হয়। নোটিসে বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ভারতে পড়তে এসে ‘সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে’ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আফসারা আনিকা মিম তার ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তাকে ১৫ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে নোটিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বভারতীর এক ছাত্র বলেন, যদি বিদেশি ছাত্ররা প্রতিবাদ করতে না পারে বা তার বন্ধুদের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য না করতে পারে তাহলে আমরা কি একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি? তবে বুধবার নোটিস হাতে পেয়ে আফসারা শিক্ষা জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

২০ বছরের এই তরুণী বলেন, বিভাগ থেকে চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম ক্ষতির এক ঘোর অনুভূতি আমাকে গ্রাস করেছে। শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন থেকে বিশ্বভারতীতে পড়তে আমি ভারতে এসেছিলাম। আমি জানি না এখন আমার কী হবে। তবে কী অপরাধে তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তা এখনো বুঝতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কৌতূহলের বশে বন্ধুদের অংশ নেওয়া প্রতিবাদ মিছিলের কয়েকটা ছবি পোস্ট করেছিলাম।

কিন্তু যখন আমি দেখলাম বিশেষ একদল লোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে ট্রল করছে, সঙ্গে সঙ্গেই আমি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছি। সত্যিই আমি কোনো দোষ করিনি।

আফসারার এক বন্ধু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে অন্তত ২৫০ জন তাকে ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ তকমা দিয়েছে।

 

"