ঢাকায় মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়া

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অনেকটাই বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকরা। ট্রাফিক সিগন্যাল কিংবা পথ নির্দেশনা যেন কোনো কিছুই মানছেন না তারা। এমনকি ফুটপাতে উঠে যাচ্ছেন অনেক মোটরসাইকেল চালক। পুলিশ বলছে, যানজটের অন্যতম কারণ মোটরসাইকেল। ট্রাফিকের কোনো সংকেত ছাড়াই চলন্ত গাড়ির ভেতর দিয়ে একে-বেঁকে চলে মোটরসাইকেল। রাজধানীর প্রতিটি মোড়েই এমন চিত্র। কেউ আবার গন্তব্যে যাওয়ার তাড়ায় ভঙ্গ করছেন অন্যের যাত্রা। লেন আটকে পেছনে সারি সারি গাড়ি অপেক্ষা করলেও নেই কোনো ভ্রƒক্ষেপ। একজন বলেন, ফেঁসে গেছি। তাই এভাবে দাঁড়িয়েছি। তবে ভুল হয়ে গেছে। অনেক মোটরসাইকেল চালকের কাছে ফুটপাত যেন মূল সড়ক। এমন চলাচলের ওপর কয়েক বছর আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। কিন্তু কে শোনে কার কথা? সড়কে সামান্য যানজট এড়াতে আইন ভেঙে ফুটপাতে উঠে যান মোটরসাইকেল চালকরা। এতে দুর্ঘটনা তো ঘটছেই, দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশও ক্ষুব্ধ। বলছেন অ্যাপসভিত্তিক রাইড সেবা দেওয়া চালকরাই নাকি বেশি নিয়ম ভাঙেন। তারা বলেন, আমরা মামলা দিচ্ছি। আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাও কিছু হচ্ছে না। যানজটের প্রধান কারণ এ মোটরসাইকেল।

এদিকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, কঠোর হতে হবে। যেমন নিয়ম করা যেতে পারে ৪ বারের বেশি আইন ভাঙলেই কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এমন। তবে আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে নিজেদের প্রয়োজনেই আইন মানার অনুরোধ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদের। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবর্তনও আসছে। আমার অনুরোধ, সবাই আইন মেনে চলুন। দুর্ঘটনা এড়াতে সময়ের কথা না ভেবে নিয়ম মেনে সড়ক চলাচল দুর্ঘটনা কমাবে। মোটরসাইকেল এখন ঢাকা মহানগরে ‘মরণযান’ হিসেবে পরিচিত। অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবার পাশাপাশি ঢাকার সড়কে চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছে এই বাহনটি। বড় গাড়ির চেয়ে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ঢাকায় প্রায় ২২ গুণ বেশি।

সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ২৫ শতাংশই ঢাকায়। দুই বছর আগে ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩১৫টি প্রাইভেট কার নিবন্ধিত হতো। এখন সেটা নেমে এসেছে ৫০টিতে। অন্যদিকে এখন মোটরসাইকেল নিবন্ধিত হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৪১৫টি।

২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া ১৮ নির্দেশনার মধ্যে মোটরসাইকেল চালনায় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তার আগে থেকেই তিন আরোহী নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এখন আর মোটরসাইকেল চলাচলে কঠোর নজরদারি নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মফিজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও মোটরসাইকেল এনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপে যুক্ত থাকার নামে। আমরা ঢাকার বাইরের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল আহসান বলেন, আমরা সব ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে বড় গাড়ি বাড়াতে চাই। ঢাকা শহরে এখন থেকে এসি বাস ও মিনিবাস ছাড়া সাধারণ বাস-মিনিবাস আর নামানো হবে না। মোটরসাইকেল কী পরিমাণ নিবন্ধন দিতে হবে তার একটা নীতিমালা আমরা করতে চাই।

 

 

"