ভাষা মতিনের চোখ দিয়ে রেশমার পৃথিবী আলোকময়

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখছেন রেশমা নাসরিন (২৮)। বাহান্নতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের নিয়ে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিন পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেও তার চোখের কর্নিয়ায় জীবনের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারেকের মেয়ে রেশমা নাসরিন। তার পৃথিবী এখন আলোকময়। তাই ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই রেশমা বিশেষভাবে স্মরণ করেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনকে।

রেশমা নাসরিন জানান, আবদুল মতিনের মতো মহান মানুষের অনুগ্রহ পেয়ে তিনি গর্বিত। জন্মগত চোখের সমস্যা ছিল। ২৪ বছর পর আবদুল মতিনের চোখের দুটি কর্নিয়ায় একটি তার চোখে স্থাপন করার পর জীবনের ছন্দ ফিরে এসেছে তার। প্রতি বছর ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ পড়ান। প্রাণ খুলে দোয়া করেন রেশমা।

রেশমা জানান, জন্মের পর ৮ বছর বয়স থেকে তার চোখের সমস্যা প্রকট হতে থাকে। অভাব ও চোখের সমস্যা নিয়েও রেশমা পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে ধামরাই সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেন, মাস্টার্সে ভর্তি হন। সেই বছর রেশমার চোখের আলো পুরোপুরি নিভে যায়। এক পর্যায়ে ঢাকার সেন্ট্রাল চক্ষু হাসপাতালের একদল চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রেশমাকে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। কিন্তু ব্যয়বহুল এই কাজটি রেশমার পরিবারের পক্ষে করা সম্ভব ছিল না।

২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। গণমাধ্যমের সুবাদে রেশমা আবদুল মতিনের কর্নিয়া দানের বিষয়টি জানতে পারেন। সেই দিনই তিনি যোগাযোগ করেন সন্ধানীর চক্ষু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারা তাকে পরদিন সেখানে যেতে বলেন। ওই বছরের ৯ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সৈনিক আবদুল মতিনের চোখের কর্নিয়া রেশমার চোখে স্থাপন করা হয়। এতে তার খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

রেশমা মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ও ছেলে রায়হান বিন আয়ানকে নিয়ে ভালো আছেন। ছেলেমেয়েকে মানুষ করার সঙ্গে রেশমা আবার নিজ গ্রাম শিয়ালকোল একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি করেন, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করতে আনন্দ পান। সেটা আবদুল মতিনের কাছ থেকেই শিখেছেন। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গদান করায় জন্য। এভাবে আবদুল মতিনের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে চান বলে জানান তিনি।

এই ব্যাপারে রেশমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারেক বলেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনকে আল্লাহ বেহেশত নসিব করেন। কারণ আজ আমার মেয়ে রেশমা চোখের আলো ফিরে পেয়েছে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের চোখের কর্নিয়া দিয়ে।

 

"