স্বামীর সহযোগিতায় গৃহবধূকে ধর্ষণ : পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা!

থানায় মামলা, স্বামী রফিকুল ইসলাম গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক গৃহবধূকে স্বামীর সহযোগিতায় ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা মামলায় তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার ওই গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো গৃহবধূর স্বামী বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও রফিকুলের এক বন্ধু। বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। সে পেশায় যাত্রীবাহী বাসের হেলপার ।

গত শনিবার ধর্ষণ ও নির্যাতনের এই ঘটনাটি ঘটে শাজাহানপুর উপজেলার স্বামী রফিকুলের ভাড়া বাড়িতে। রফিকুল তার স্ত্রী ওই গৃহবধূকে নিয়ে প্রায় ৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকে বলে জানা গেছে। মামলায় বলা হয়েছে, গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তার স্বামী রফিকুল ইসলামের অজ্ঞাত এক বন্ধু। এ ধর্ষণে সহায়তা করে রফিকুল ইসলাম। পরে গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশে তার শরীরে তরল পদার্থ ঢেলে দিয়াশালাই কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় ও মাথা আংশিক ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ধর্ষণের পর গৃহবধূকে এই পাশবিক নির্যাতন করে তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধু।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই গৃহবধূর ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে রাইফা ইসলাম নামের ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে তাদের। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার স্বামী রফিকুল তার এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়িতে আসে। এরপর অজ্ঞাত বন্ধুকে দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করায় সে। পরে গৃহবধূর শরীরে তরল পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ব্লেড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয় ও মাথা আংশিক ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

একাধিক নারীর সঙ্গে রফিকুল ইসলামের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব নিয়েই প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত তাদের সংসারে। ওই গৃহবধূকে বিয়ে করার পরও আরো দুটি বিয়ে করেছিল রফিকুল। পরে তাদের ডিভোর্স দেয় রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করত এমন দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের। তিন বছর আগে রফিকুলের বিরুদ্ধে একটি নারী নির্যাতন মামলা করেন এই গৃহবধূ। মামলাটি তুলে নিতে অনেক চাপ ও হুমকি দিচ্ছিল রফিকুল ইসলাম। প্রায় দুই বছর আগে রফিকুল ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডিভোর্স দিয়েছিল। পরে আবার তারা বিয়ে করে সংসার শুরু করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আমবার হোসেন জানান, রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রফিকুল ইসলাম ঘটনার পরপরই ঢাকায় চলে গিয়েছিল। বগুড়ায় আসামাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

"